টাইমলাইনভারত

এই তিন ভয়ানক জঙ্গিকে ফাঁসির কাঠে ঝুলিয়ে ছিলেন প্রণব মুখার্জি

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভারত রত্ন তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় (Pranab Mukherjee) আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। প্রায় এক মাসের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আজ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ওনাকে তুখর রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের জন্য যেমন ওনাকে সন্মান জানানো হয়। তেমনই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যও ওনাকে আজীবন মনে রাখা হবে। ভারতের ইতিহাসে উনি সবথেকে কড়া মনোভাবের রাষ্ট্রপতি হিসেবে সুখ্যাত থাকবেন। কারণ উনি নিজের কার্যকালে ৯৭ শতাংশ দয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন। আফজল গুরু, আজমল কসাভ আর ইয়াকুব মেমনের মতো কুখ্যাত জঙ্গিদের মামলার নিষ্পত্তি ঘটেছিল ওনারই কার্যকালে। উনি নিজের কার্যকালে ৩৭ টি দয়ার আবেদন খারিজ করেছিলেন।

প্রণব মুখার্জীর শাসনকালে মুম্বাইয়ে ২৬/১১ হামলার দোষী আজমল কাসভ, সংসদ ভবনে হামলার দোষী আফজল গুরু আর ১৯৯৩ এ মুম্বাই বোমা কাণ্ডের দোষী ইয়াকুব মেমনের সর্বোচ্চ সাজা সুনিশ্চিত করে সবার মন জয় করে নিয়েছিলেন। কাসভকে ২০১২, আফজল গুরুকে ২০১৩ আর ইয়াকুব মেমনকে ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছিল। নিজের কার্যকালে প্রণব মুখার্জী চারটি প্রাণ ভিক্ষার আবেদনে ফাঁসির সাজাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বদলে দিয়েছিলেন। বিহারে ১৯৯২ সালে অগরি জাতীর হত্যার মামলায় দোষী ছিল তাঁরা। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন ২০১৭ এর নববর্ষে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী ননহে লাল মোচি, বীর কুওয়র পাসওয়ান, কৃষ্ণা মোচি, আর ধর্মেন্দ্র সিংয়ের সর্বোচ্চ সাজাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বদলে দিয়েছিলেন।

প্রণব মুখোপাধ্যায়/ Pranab Mukherjee

১১ ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে পশ্চিম বঙ্গের বীরভুম জেলায় প্রণব মুখার্জী জন্মগ্রহণ করে। উনি ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত দেশের রাষ্ট্রপতি পদে ছিলেন। দেশের ১৩ তম রাষ্ট্রপতি ছিলেন প্রণব মুখার্জী। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি প্রোফেসর ছিলেন। এমনকি তিনি একটি লোকাল সংবাদ পত্র ‘দেশের ডাক” এ সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছিলেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের (Pranab Mukherjee) মৃত্যুতে আগামীকাল মঙ্গলবার ছুটি ঘোষণা করা হল নবান্নের তরফ থেকে। রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর আর সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে আগামীকাল ছুটি থাকবে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এই কথা ঘোষণা করেন। এছাড়াও প্রণববাবুর শেষকৃত্য যেদিন হবে, সেদিনও রাজ্যে ছুটি থাকবে বলে জানান তিনি।

দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সোমবার দিল্লীর সেনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রণব মুখার্জী। একদিকে করোনা আরেকদিকে মস্তিস্কের রক্তক্ষরণের কারণে বিগত প্রায় একমাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। এমনকি কোমাতেও চলে গিয়েছিলেন তিনি। আজ সকালে দিল্লীর সেনা হাসপাতাল ওনার হেলথ বুলেটিন জারি করে জানায় যে, ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে ওনার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। এরপর আজ বিকেলে প্রণব পুত্র অভিজিৎ মুখার্জী প্রণব বাবুর প্রয়াত হওয়ার খবর সার্বজনীন করেন।

প্রণব বাবুর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস এবং বিজেপির নেতা সমেত দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল গুলো শোক প্রকাশ করে। প্রণব বাবুর মৃত্যুর কারণে কেন্দ্র সরকার সাতদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করার ঘোষণা করেছে। আরেকদিকে, প্রণব বাবুর পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে আগামীকালই ওনার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও প্রণব বাবুর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেন। উনি বলেন, এবার দিল্লীতে গেলে প্রণব দার সাথে দেখা হবে না, সেটা মেনে নিতে পারছি না। আরেকদিকে, আগামীকাল রাজ্যে পুলিশ দিবসের অনুষ্ঠানও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রণব বাবুর মৃত্যুর পর।

Related Articles

Back to top button