টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গবিধানসভা নির্বাচন

নন্দীগ্রামে হওয়া ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদে নামবে তৃণমূল, বড়ো ঘোষণা করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা ‘পূর্বপরিকল্পিত’। এমনই দাবি তুলে এদিন নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বরা। এবার তারই প্রতিবাদ জানাতে, শুক্রবার বিকালে ৩টে থেকে ৫টা পর্যন্ত গোটা রাজ্যে মৌন মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

জানা যাচ্ছে, বাংলার প্রতিটি জেলা ও ব্লকে শুক্রবার কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করবে তৃণমূল সমর্থকরা। একই সঙ্গে শুক্রবারই দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাবে শাসক দল। রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সৌগত রায়, কাকলী ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়রা জাতীয় নির্বাচন কমিশনে এই অভিযোগ জানাবেন বলে জানান পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

সাংবাদিক বৈঠকে এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, এই ঘটনার দায় পুলিশের থেকে বেশি নির্বাচন কমিশনের। কেন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রয়োজন মত নিরাপত্তা দেওয়া হল না। তাই কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে ও দলনেত্রীর উপর হামলার প্রতিবাদে গোটা রাজ্যে মৌন মিছিল পালন করা হবে ঘোষণা করনে পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

তৃণমূল মহাসচিব এদিন এও অভিযোগ করেন যে, ‘পূর্বপরিকল্পিত হামলা হয়েছে। যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আঘাত করল, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে’। এদিন নির্বাচন কমিশনের অফিসে অভিযোগ পত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এও দাবি করেন যে, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এরাজ্যে সংহতি বজিয়ে ছিল। নির্বাচন কমিশন এসে প্রথমে এডিজি-কে সরাল, তারপর মঙ্গলবার ডিজি-কে। তারপরই মমতার উপর এই হামলা।’

তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এদিন দাবি করেন, বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও যুব সভাপতি সৌমিত্র খাঁ বলেছিলেন, ১০ তারিখের পর দেখবেন কি হয়! আর আমরা এবার দেখলাম কি হল। ১০ তারিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরই, এই হামলা। যা নিয়ে ঘোর সন্দেহ আছে বলেও জানান তিনি।

তবে এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ইউনিটের সাড়ে বারো নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা এদিন দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান। তিনি তাতে জানান, ‘আমি হাত জোর করে সকলের অভ্যর্থনা নিতে নিতে এগোচ্ছিলাম, সেই সময় কোনও কারণে গাড়িটা চেপে যায় পায়ে। তাতেই খুব চোট লাগে। কাল সত্যি ব্যথা লেগেছে, বুকেও যন্ত্রণা হচ্ছিল। সেই সময় আমার সঙ্গে যা ওষুধ ছিল সেটা দিয়ে সামাল দিয়েছি। তারপর আমরা কলকাতা চলে আসি। আমি আগামি কয়েকদিনের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারে ফিরব। পায়ে চোটের জন্য হয়তো হুইল চেয়ার লাগতে পারে। আপনারা শান্ত ও সংযত থাকুন।‘

Back to top button