টাইমলাইনফুটবলখেলা

আবারও UCL-এ রূপকথা লিখলো রিয়াল মাদ্রিদ, পিছিয়ে গিয়েও ম্যান সিটিকে টপকে ফাইনালে বেনজেমারা

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্ক: আরও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাত, আরও একবার রিয়াল মাদ্রিদের হাতে লেখা রূপকথার গল্প। ঠিক যখন মনে হচ্ছিলো যে সব শেষ, সেইমুহূর্তে জ্বলে উঠলো রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রদ্রিগো গেয়াস। ২০১৮-তে রিয়ালের আরেক ব্রাজিলিয়ান তরুণ ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সাথেই যাকে ভবিষ্যতের স্বপ্নের রিয়াল মাদ্রিদ দল তৈরির জন্য ক্লাবে আনা হয়েছিল। ভিনিসিয়াসের পায়ের কাজের জৌলুস অন্য মাপের। তাই তার সামনে জনপ্রিয়তার নিরিখে বেশ খানিকটা পিছিয়ে রদ্রিগো। কিন্তু টানা দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে নিজেকে শিরোনামে তুলে এনেছেন স্যান্টোস থেকে রিয়াল মাদ্রিদে আসা ব্রাজিলিয়ান তরুণ।

প্রথম পর্বের খেলায় রিয়াল মাদ্রিদ ৪ গোল হজম করেছিল। কিন্তু ভিনিসিয়াস এবং করিম বেনজেমার দৌলতে তারা ৩ টি গোল শোধও করেছিল। অর্থাৎ তাদের এবং ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যে কেবল একটি গোলের পার্থক্য ছিল এবং সিটিকে টপকে ফাইনালের টিকিট পেতে গেলে নিজেদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাব‍্যু-তে তাদের জিততে হতো ২ গোলের ব্যবধানে। ১ গোলের ব্যবধানে জিতলে ম্যাচ গড়াতো টাইব্রেকারে।

কিন্তু প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল সতর্ক। তার মাঝেও কিছু সুযোগ পেয়ে সেগুলি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ভিনিসিয়াস এবং বেনজেমা। সেই সঙ্গে দুবার হলুদ কার্ড দেখার হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান রিয়ালের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। দ্বিতীয়ার্ধে আচমকাই ধাক্কা খেয়েছিল মাদ্রিদ। বের্নার্ডো সিলভার পাস থেকে বাঁ পায়ের চোখ ধাঁধানো শটে গোল করে সিটির হয়ে এগ্রিগেট স্কোর ৪-৩ থেকে ৫-৩ করে দেন আলজিরিয়ান তারকা রিয়াদ মাহারেজ। অতি বড় রিয়াল সমর্থকও সেই সময় আশা ছেড়ে দিয়েছিল। ম্যাচ শেষই হয়ে যেত যদি না কিছু অসাধারণ সেভ করতেন রিয়াল গোলরক্ষক কুর্তুয়া এবং একবার গোললাইন থেকে একটি নিশ্চিত হয়ে যাওয়া গোল বাঁচান রিয়াল লেফট ব্যাক ফেরল্যান্ড মেন্ডি।

কিন্তু ম্যাচের ৯০ মিনিটে রিয়াল মিডফিল্ডার কামাভিঙ্গার লং বলটি অবিশ্বাস্য দক্ষতায় সেন্টার করেন বেনজেমা। সিটি ডিফেন্স এবং গোলরক্ষক কিছু বোঝার আগেই চিতার ক্ষিপ্রতায় বল জালে জড়িয়ে এগ্রিগেট স্কোর ৫-৪ করে দেন পরিবর্ত হিসাবে নামা রদ্রিগো। অতিরিক্ত ছয় মিনিট সময় ফের চমক। এবার রিয়াল রাইট ব্যাক ড্যানি কার্ভাহালের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে এগ্রিগেটে ৫-৫ করে দেন সেই রদ্রিগো। সিটি গোলরক্ষক এদেরসন একটি দুর্দান্ত সেভ না করলে হ্যাটট্রিকও করে ফেলতে পারতেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ।

হঠকারিতা দেখিয়ে কেভিন দি ব্রুইন, মাহারেজদের আগেভাগেই তুলে নেওয়ার ফল ভুগতে হয় ম্যান সিটি ম্যানেজার পেপ গুয়ার্দিওয়ালাকে। এক্সট্রা টাইমের ৩০ মিনিটে ঠিকঠাক আক্রমণ করতে ব্যর্থ হয় সিটি। উল্টে অতিরিক্ত সময়ের ৫ মিনিটে সিটি সেন্টার ব্যাক রুবেন ডিয়াজ বক্সের ভেতর বেনজেমাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় মাদ্রিদ। ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে দেন বেনজেমাই। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি ছিল তার ১৫ তম গোল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (৩) এবং রবার্ট লেওয়ানডস্কির পরে তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক মরশুমে ১৫ গোলের কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। সেইসঙ্গে কোটি কোটি টাকা খরচের পরও আরও একবার ম্যান সিটিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাতে ব্যর্থ হলেন সিটি কোচ পেপ গুয়ার্দিওয়ালা। প্যারিসে আয়োজিত হতে চলা ফাইনালে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সফল ক্লাব লিভারপুলের মুখোমুখি হবে কার্লো আনসেলোত্তির রিয়াল মাদ্রিদ। ভিলারিয়েলকে ৫-২ এগ্রিগেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে জুর্গেন ক্লপের দল।

 

Related Articles

Back to top button