আন্তর্জাতিকটাইমলাইন

ধর্ম না দেশ কি বাঁচাবে পাকিস্তান?মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা চীনের,সাম্প্রদায়িকতায় অগ্নিগর্ভ চীন

 

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ  একদিকে চীনের রাষ্ট্রপতির ভারত সফর। অন্যকে মোদি জামানায় সম্প্রীতির বার্তা। মুসলিম মহিলারা বানাচ্ছে মোদির মূর্তি। হিন্দু-মুসলিমের এক অটুট বন্ধন যেন ভারতের এক দেশ এক সমাজ গড়ার দিকে। অন্যদিকে চীনের পরিস্থিতি অনেকটাই অগ্নিগর্ভ

” ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের উত্তর-পশ্চিমাংশের শিনহিয়াং অঞ্চলে গত কয়েক বছরের মধ্যেই বন্দি শিবির ব্যবস্থার মাত্রা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। চীনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল-এক্সিকিউটিভ কমিশন একে অভিহিত করেছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কারারোধ’ হিসেবে। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী চীনের মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রায় 10 লক্ষ মানুষকে কয়েক মাস ধরে গোপন বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের বাধ্য করা হচ্ছে ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী নিয়মগুলো পালন করতে।

 

 

ইসলামী মূল্যবোধ বিসর্জন দিতে। প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় তাদের কমিউনিস্ট পার্টির এজেন্ডা সংগীত গাইতে বাধ্য করা হচ্ছে। ইসলামী নিয়ম ও শরীয়ত অনুযায়ী মুসলিমদের মদ্যপানও শূকরের মাংস খাওয়া নিয়মবিরুদ্ধ। কিন্তু সেগুলো তাদের জোর করে অত্যাচার করে করার খবরও চলে এসেছে সামনে। প্রথমদিকে কেবল উইঘুর সম্প্রদায় কে চরমপন্থী রূপে কার্ড করেছিল বেজিং প্রশাসন। কিন্তু পরবর্তীতে মুসলিম মনোভাবাপন্ন বৈশিষ্ট্য থাকলে তাদেরকে কারাবন্দি করেছে। তারা লম্বা দাড়ি থাকা মানুষগুলো কেউ এর আওতায় নিয়ে এসেছে। মাসের শুরুতে জাতিসংঘের প্যানেলে একজন সদস্য চীনের এক সিনিয়ার কর্মকর্তাকে বন্দিশিবিরের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন তুলে ধরলে তখন তিনি অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। এবং তিনি বলেন সেগুলো বিশেষ সংশোধনাগারের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। তথ্য বিচার করলে চীনের নির্মম অত্যাচার মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর বিশ্বের কাছে এক নয় বার্তা এনেছে।

এর পিছনে এক ইতিহাসের কারণ আছে বলে অনেকে মনে করেন। কারণ যারা বেশিরভাগ মনে করেন মুসলিম দের ধর্মই তাদের রোগ। সম্প্রদায় যেহেতু তাদের ধর্মের প্রতি অপেক্ষাকৃত বেশি মৌলবাদী মানসিকতা পোষণ করেন তাই এটাকে একটা মানসিক ব্যাধির গ্রুপে তারা চিহ্নিত করেছেন। তাদের কম্যুনিস্ট পার্টি মনে করেন যে এটা একটা বিষাক্ত ওষুধের মতো। ধর্মীয় চরমপন্থা কে সমূলে উপড়ে ফেলার জন্য তারা তো বদ্ধপরিকর।

কিছু কিছু রাজনৈতিক ইতিহাস ও বড় ধরনের ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘদিন ধরে চিনা আশঙ্কা করে আসছিল যে ওরা হয়তো শিনহিয়াং তাদের মাতৃভূমি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এবং পূর্ব তুর্কিস্থান নামেও অভিহিত করবার একটা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

2009 সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মৃত্যুবরণের ইতিহাস আজও অমলিন চিনের ইতিহাসে। ধরনের মৌলবাদী উইঘুর সম্প্রদায় জাতীয় চীনের সাম্প্রদায়িক ইতিহাসে আর কোনো রকম আঘাত হানতে না পারে তার জন্য তারা এখন তাদের উপর মানসিক চিকিৎসা চালাচ্ছেন।

Leave a Reply

Close
Close