টাইমলাইনভারতসাফল্যের কাহিনি

“আমি রতন টাটা বলছি, দেখা করতে পারি?” হঠাৎ এই ফোনে রীতিমতো ভাগ্য ঘুরে যায় এই দম্পতির

বাংলা হান্ট ডেস্ক: রতন টাটা (Ratan Tata)-কে চেনেন না এমন ভারতীয় কার্যত খুঁজে পাওয়া মুশকিল। একাধিক সমাজকল্যাণমূলক এবং জনদরদী কাজের জন্য তিনি প্রায় সবসময়ই খবরের শিরোনামে থাকেন। পাশাপাশি, তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন দেশের ছোট ছোট স্টার্টআপগুলির উদ্দেশ্যেও। এমতাবস্থায়, শিল্পপতি রতন টাটার একটি ফোন কল কিভাবে পুণে-ভিত্তিক মোবাইল এনার্জি ডিস্ট্রিবিউশন স্টার্টআপ রেপোস এনার্জির (Repos Energy) ভাগ্য ঘুরিয়ে দিয়েছিল সেই তথ্যই সামনে আনলেন ওই স্টার্টআপের উদ্যোক্তারা। মূলত, রতন টাটা এই স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছেন। পাশাপাশি, সম্প্রতি Repos Energy জৈব বর্জ্য দ্বারা চালিত একটি “মোবাইল ইলেকট্রিক চার্জিং ভেহিকল”-ও লঞ্চ করেছে।

Repos Energy-র যাত্রা কয়েকবছর আগে শুরু হয়: জানিয়ে রাখি যে, কয়েক বছর আগে অদিতি ভোসলে ওয়ালঞ্জ এবং চেতন ওয়ালঞ্জের হাত ধরে শুরু হয়েছিল Repos Energy-র যাত্রা। কিছু সময় পরেই, তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই বিষয়ে কাজ করেছেন এমন একজন অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার প্রয়োজন। তখন ওই দু’জনের মনেই উঠে আসে রতন টাটার নাম।

অদিতি রতন টাটার সাথে দেখা করার আশা ছাড়েন নি: জানা গিয়েছে, অদিতি রতন টাটার সাথে দেখা করার ইচ্ছে প্রদর্শন করেন। যা তাঁদের কাছে এক চ্যালেঞ্জের বিষয় ছিল। তবে, অদিতি আশা ছাড়েন নি। এই প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম লিঙ্কডইনে লেখা একটি পোস্টে অদিতি বলেছেন, “আমাদের দু’জনেরই কোনো ব্যবসায়িক সংক্রান্ত অধ্যয়ন ছিল না, কিন্তু আমরা আমাদের জীবনের খুব প্রথম দিকে একটা জিনিস শিখেছিলাম যে, অজুহাত সবসময় ব্যর্থতা এনে দেয়। সবাই আমাদের বলেছেন যে আপনারা তাঁর (রতন টাটা) সাথে দেখা করতে পারবেন না এবং এটা অসম্ভব। কিন্তু আমরা কখনই এটিকে অজুহাত হিসাবে নিই নি।” অদিতি আরও বলেছেন যে, তিনি Repos Energy-র কর্মপদ্ধতির ভাবনা সম্পর্কে একটি 3D প্রেজেন্টেশন তৈরি করে তারপর রতন টাটাকে হাতে লেখা চিঠি দিয়ে সেই 3D উপস্থাপনাটি পাঠান।

রতন টাটার বাড়ির বাইরে ১২ ঘন্টা অপেক্ষা করেছিলেন: এছাড়াও তিনি কিছু সূত্রের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন যাঁরা তাঁদের রতন টাটার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারতেন। এমনকি তিনি রতন টাটার বাড়ির বাইরে ১২ ঘন্টা যাবৎ অপেক্ষাও করেছিলেন। কিন্তু তিনি দেখা করতে পারেননি। এমতাবস্থায়, ক্লান্ত হয়ে তিনি রাত ১০ টার দিকে তাঁর হোটেলে ফিরে আসেন এবং একটি ফোন পান। সেই মুহূর্তটির কথা স্মরণ করে অদিতি বলেন, “আমি তখন ফোন তোলার মুডে ছিলাম না, কিন্তু তারপরও ফোনটা তুলেছিলাম এবং ওপাশ থেকে আমি শুনতে পেলাম ‘হ্যালো, আমি কি অদিতির সাথে কথা বলতে পারি?'”

“আমি রতন টাটা বলছি। তোমার চিঠি পেয়েছি। আমরা কি দেখা করতে পারি?”: এদিকে, হঠাৎ এই ফোন পেয়ে অদিতি স্বাভাবিকভাবেই ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। আর তখনই তিনি শুনতে পান, “আমি রতন টাটা বলছি। তোমার চিঠি পেয়েছি। আমরা কি দেখা করতে পারি?” এমতাবস্থায়, অদিতি জানান, ওই সময়ে তিনি ঠিক কি বলবেন বুঝতে পারছিলেন না। এমনকি, তাঁর চোখ থেকে আনন্দাশ্রু ঝরে পড়ে।

অদিতি আরও লিখেছেন, “পরের দিন আমরা সকাল পৌনে এগারোটা নাগাদ তাঁর বাড়িতে পৌঁছছিলাম এবং আমাদের প্রেজেন্টেশন দেওয়ার জন্য বসার ঘরে অপেক্ষা করছিলাম। ঠিক ১১ টার সময় নীল শার্ট পরা একজন লম্বা এবং ফর্সা ব্যক্তি আমাদের দিকে এগিয়ে আসেন এবং আমাদের মনে হচ্ছিল যেন সব ঘড়ির কাঁটা এক সাথে থেমে গেছে। সকাল ১১ টার ওই মিটিং চলে দুপুর ২ টো পর্যন্ত। ওই তিন ঘণ্টা ছিল আমাদের জন্য স্বপ্নের মতো। তিনি আমাদের চিন্তা-ভাবনা শুনেছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এবং আমাদের পথও দেখিয়েছেন।”

অদিতি জানান, রতন টাটা তাঁদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তাঁরা তাঁর কাছ থেকে কি আশা করেন? এর উত্তরে উদ্যোক্তারা জানান, “স্যার, আমাদের জনসাধারণের সেবা করতে এবং দেশকে বিশ্বব্যাপী করতে সাহায্য করুন৷ আমাদের পথ দেখান।” এর উত্তরে রতন টাটা বলেন, “ঠিক আছে।”

অদিতি আরও যোগ করেছেন, “টাটা মোটরস থেকে আমাদের সাহায্য পাওয়া, রতন টাটার সাথে কথা বলা… তাঁকে আমাদের প্রথম মোবাইল ফুয়েল স্টেশন দেখানো এবং তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পাশাপাশি, ২০১৯ সালে প্রথম টোকেন বিনিয়োগ এবং এপ্রিল ২০২২-এ দ্বিতীয় বিনিয়োগ পাওয়া এই সবকিছু আমাদের টিম ছাড়া কখনোই সম্ভব হতো না।” সর্বোপরি, তিনি টাটার অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শান্তনু নাইডুরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

Related Articles