স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়ল চীনের ষড়যন্ত্র: সীমান্তে দেখা মিলল চিন সেনার তাঁবু, মেশিনপত্র

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ একদিকে করোনা আতঙ্কে তটস্থ সারা দেশ।  অন্যদিকে গত কয়েকদিন ধরে লাদাখের (Ladakh) সীমান্তের কাছে চিন সেনা ক্রমশ ঘাঁটি গাড়ছে। এর ফলে তৈরি হচ্ছে উত্তেজনা। লাইন  অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের কাছে চীনা সেনার তাঁবুর সেই স্যাটেলাইট ইমেজ প্রকাশ্যে এল। সেই স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা যাচ্ছে চিনের সৈন্যবাহিনীর  একাধিক তাঁবু। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে গালোয়ান ভ্যালির কাছে প্রায়  ৮০টি চিনা তাঁবু। তাদের কাছে যুদ্ধে ব্যবহৃত কিছু মেশিনপত্র আছে  বলেও মনে করা হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে কম বেশী  কিছু ভারতীয় সেনার (Indian Army) তাঁবুও দেখা যাচ্ছে ওই অঞ্চলে। গত দু’সপ্তাহে ওই এলাকায় চিন সেনার অন্তত ১০০ টা তাঁবু লাগানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কিছুদিন আগেও  প্যাংগং তোসো লেক ও পরে গালোয়ান ভ্যালিতে চিনের সেনা পাঠানোর খবর প্রকাশ্যে আসে।এরই মধ্যে শুক্রবার  লে থেকে  ঘুরে এসেছেন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে (MM Naravan)।

image2

সম্প্রতি  লাদাখের বিখ্যাত প্যাংগং লেকের পূর্ব তীরে অনেকগুলি চিনা নৌকা জমায়েত হয়েছে। ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে  বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। ওই  লেকের পূর্ব প্রান্ত চিনের সীমান্ত হলেও, পশ্চিম প্রান্ত ভারতের অধীনে। সেখানে রাস্তা তৈরি করেছে ভারত তা নিয়েই আপত্তি চিনের।৪৫ কিমি সীমান্ত জুড়ে চলছে ভারতীয় সেনার  টহলদারি।  শুধুমাত্র  নৌকার সংখ্যা বাড়ানো পর্যন্ত থেমে থাকেনি চিন। সেনাদের  শারীরিক ভঙ্গিতেও প্রকাশ পেয়েছে  আক্রমণাত্মক মনোভাব। শুধু লাদাখ সীমান্তই নয়, এর আগে উত্তরাখণ্ডে মানস সরোবর যাত্রার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক সড়ক উদ্বোধন ঘিরেও বিতর্কের শুরু  হয়। নেপালের দাবি, ওই সড়কের কিছু অংশ ভারত নিজের বলেছে।

china army

সম্প্রতি ভারতীয় সেনা ও কয়েকজন আইটিবিপি জওয়ানকে আটকও করেছিল চিন। কিন্তু কিছুদিন পরই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়, অস্ত্রশস্ত্রও ফেরত দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যম সুত্রে খবর কিছুক্ষনের জন্য জাওয়ানদের  আটক করেছিল চিন সেনাবাহিনী। কিন্তু কেন ওই জাওয়ানদের আটক করা হয়েছিল সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।

৪৫ কিমি সীমান্ত জুড়ে চলছে টহলদারি। সূত্র বলছে চিনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত সমস্যার মূল সূত্রপাত প্যাংগঙ লেক ঘিরে। শুধু নৌকার সংখ্যা বাড়ানোই নয়, তাঁদের শারীরিক ভঙ্গিতেও এসেছে আক্রমণাত্মক মনোভাব। এপ্রিল মাসের শেষ থেকেই চিনের মানসিকতার এই পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। উল্লেখ্য ১৯৯৯ সালে কার্গিল থেকে যখন ভারতীয় সেনা পাকিস্তানি সেনাকে হঠাতে ব্যস্ত ছিল, তখনই প্যাংগঙ সীমান্ত এলাকায় পেট্রোলিং শুরু করে চিনা সেনা। তা যে রীতিমত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।

শুধু লাদাখ সীমান্তই নয়, এর আগে উত্তরাখণ্ডে মানস সরোবর যাত্রার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক সড়ক উদ্বোধন ঘিরেও বিতর্কের সূত্রপাত হয়। নেপালের দাবি, ওই সড়কের কিছু অংশ ভারত নিজের বলেছে।

সম্পর্কিত খবর