টাইমলাইনভারতরাজনীতি

‘বন্দেমাতরম বলা আল্লাহর অপমান’, শিন্ডের নির্দেশের পর তুলকালাম কাণ্ড মহারাষ্ট্রে

বাংলাহান্ট ডেস্ক : নতুন বিতর্ক মহারাষ্ট্রে। একনাথ শিন্ডে (Eknath Shinde) সরকারের রেজোলিউশনে (জিআর) রাজ্যের সমস্ত কর্মচারীকে ‘হ্যালো’ বলার পরিবর্তে ‘বন্দে মাতরম’ (Vandemataram) বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরই এই নির্দেশ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান উতর।

মহাত্মা গান্ধীর ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসবের অংশ হিসেবে এই আদেশ জারি করা হয়েছে। তবে জানা যাচ্ছে, গত অগস্ট মাসেই এই সংক্রান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নির্দেশে সাধারণ প্রশাসন বিভাগ একটি অর্ডিন্যান্স জারি করে। এটি সরকারি, আধা-সরকারি, স্থানীয় নাগরিক সংস্থা, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য। এই অর্ডিন্যান্সে বলা হয় কর্মীদের ফোন কলের উত্তর দিতে, অন্য কর্মীদের সম্বোধন করতে, নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলতে অথবা প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে ‘হ্যালো’ এর পরিবর্তে ‘বন্দে মাতরম’ বলতে হবে।

এই অর্ডিন্যান্সের পক্ষে সমর্থন জোগাড় করার জন্য ওয়ার্ধায থেকে প্রচার শুরু করেন উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী সুধীর মুনগান্টিওয়ার। মুনগান্টিওয়ার জানান, গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে এই প্রচার চালানো হয়। বন্দে মাতরম লিখেছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি ভারতের জাতীয় সংগীত।

ফড়নবীস বলেন, একটা সময় বন্দে মাতরমের স্লোগান আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। শহীদ ভগৎ সিংয়ের শেষ কথা ছিল ‘বন্দে মাতরম’। এটাকে আবার আমাদের দৈনিক কাজকর্মে ফিরিয়ে আনতে হবে। আজ থেকে আমরা ‘বন্দে মাতরম’ আন্দোলন শুরু করছি।

এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে অনেক রাজনৈতিক দল। মহা বিকাশ আগাড়ি জোটও এই বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মহারাষ্ট্র সমাজবাদী পার্টির সভাপতি আবু আসিম আজমি বলেছেন যে তিনি এই পদক্ষেপকে অনুমোদন করেননি। তিনি দাবি করেন, “আমরা ‘সারে জাহান সে আচ্ছা’কে স্বাগত জানাতে চাই, ‘বন্দে মাতরম’কে নয়। মুসলিমরা ‘বন্দে মাতরম’ বলতে পারে না কারণ এটা তাদের বিশ্বাসের পরিপন্থী।”

বিজেপির চাপে ‘জয় মহারাষ্ট্র’ ত্যাগ করে শিন্ডে ‘বন্দে মাতরম’ গ্রহণ করলেন কিনা তাও জানতে চেয়েছিলেন আজমি। তিনি বলেন, “আমি বহুবার বালাসাহেব ঠাকরের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি সর্বদা ‘জয় মহারাষ্ট্র’ বলতেন এবং শিব সৈনিকরাও একই উত্তর দিতেন।”

Related Articles