টাইমলাইনখেলাক্রিকেট

লন্ডনের নয় কলকাতার লর্ডসের ব্যালকনিতেই উপস্থিত হলেন সৌরভ, জার্সির বদলে ওড়ালেন জাতীয় পতাকা

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্ক: লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডকে বাঙালি ক্রিকেটপ্রেমীরা একটু যেন বেশিই পছন্দ করেন। তার অবশ্য বড় কারণও রয়েছে। ১৯-২০ বছর আগে এই লর্ডসেই এক বাঙালির ব্যাঘ্র বিক্রম দেখেছিল গোটা বিশ্ব। সেই বাঙালির অধিনায়কত্বে চলতি শতাব্দীতে প্রথমবার বিদেশের মাটিতে কোন ট্রফি ঘরে তুলতে পেরেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দৌলতেই লর্ডস যেন আরও প্রিয় বাঙালিদের।

করোনার ভ্রুকুটি কাটিয়ে চলতি বছরে লর্ডসের ব্যালকনি এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আরও একবার দেখা হল। নবদূর্গা পূজা কমিটির অভিনব উদ্যোগ ফের একবার তাদের মহারাজকে লর্ডসের ব্যালকনিতে দেখতে পেলেন বাঙালি ক্রিকেটপ্রেমীরা। এবারের পুজো উপলক্ষে তাদের তৈরি করা লর্ডসের ব্যালকনির আদলে মন্ডপে সৌরভকে দেখে কারোর মনে যদি একটু নস্ট্যালজিয়া জেগে ওঠে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

ওয়াংখেড়ের সবুজ গালিচায় ম্যাচ জিতে জামা খুলে মাথার ওপর ঘুরিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের তখনকার তারকা অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। ঘটনাটি মনে রেখে দিয়েছিলেন তৎকালীন ভারত অধিনায়ক। এরপরে ইংল্যান্ডের মাটিতে ন্যাটওয়েস্ট নামক ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে গিয়ে ফাইনালে উঠেছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভারত। কিন্তু প্রথমে ব্যাট করে ৩২৬ রানের বিশাল টার্গেট ভারতের সামনে রেখেছিল ইংল্যান্ড, যা চেজ করে ম্যাচে তার সেই যুগে প্রায় অসম্ভবের সামিল ছিল। কিন্তু হার মানেনি সৌরভ বীরেন্দ্র সেওয়াগকেও যেন সেদিন সৌরভের আগ্রাসনের সামনে ফিকে দেখিয়েছিল। আগ্রাসী ৬০ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে একটি নিখুঁত স্টার্ট দিয়ে এসেছিলেন সৌরভ। কিন্তু এরপর খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে সে অবাক হয়েছেন দ্রাবিড়দের হারিয়ে রীতিমতো চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। কিন্তু প্রথমে যুবরাজ এবং তারপর পেলেন রাতের সঙ্গী করে সেই ম্যাচ জিতিয়ে ছিলেন মহম্মদ কাইফ। যার পরে লর্ডসের ব্যালকনিতে জামা খুলে বনবন করে ঘুরিয়ে ফ্লিনটফকে যোগ্য জবাব দিয়েছিলেন প্রিন্স অফ কলকাতা।

তবে নবদুর্গার তৈরি করা এই বিশেষ দুর্গাপুজো প্যান্ডেলে সৌরভ গাঙ্গুলী ভারতের জার্সি ঘোরাননি। তার হাতে দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় পতাকা নিয়ে তিনি হাওয়ায় উড়িয়ে বাঙ্গালীদের মনে সেই পুরনো নস্টালজিয়া জাগিয়ে তুলতে সমর্থ হয়েছেন।

দু-দশক আগের সেই স্মরণীয় মুহূর্তের স্মৃতির উদযাপন করার জন্য নবদুর্গা কমিটির সেই অনুরোধকে ফেলতে পারেননি বিসিসিআই সভাপতি। তাকে অনুরোধ করা মাত্র তিনি তাদের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হন এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

Related Articles