টাইমলাইনখেলাআন্তর্জাতিকক্রিকেট

বহুদিন পর ফের নায়ক মিলার, শ্রীলংকার বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে লড়াই জমিয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিশ্বকাপের সুপার ১২ পর্যায়ের লড়াই এখন রীতিমত জমে উঠেছে একদিকে যেমন নিজেদের গত ম্যাচে হারের পর শনিবার জয়ে ফিরতে মুখিয়ে ছিল শ্রীলংকা, তেমনি অন্যদিকে নিজেদের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে মরিয়া ছিল দক্ষিণ আফ্রিকাও। এদিন টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক বাভূমা। শুরুটা যদিও ভাল হয়নি শ্রীলংকার জন্য। শুরুতেই ৭ রানে কুশলকে বোল্ড করেন নকিয়া। তবে অন্যদিকে নিশাঙ্কা শনিবার ছিলেন সুন্দর ফর্মে।

আসালঙ্কাকে সাথে নিয়ে আজও প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত ২১ রানের মাথায় আসালঙ্কা রান আউট হতেই ভেঙে পড়ে শ্রীলংকা। একদিকে নিশাঙ্কা লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্যদিকে কেউই তার সঙ্গ দিতে পারেননি। সামসি, প্রিটোরিয়াস, নকিয়াদের ত্রিফলা আক্রমণে আজ রীতিমতো বিধ্বস্ত হচ্ছিল
তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ৫৮ বলে হাফডজন বাউন্ডারি এবং তিনটি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে সাজানো ৭২ রানের ইনিংস খেলে নিশাঙ্কা প্রিটোরিয়াসের শিকার হতেই শ্রীলংকার সমস্ত প্রতিরোধ শেষ হয়ে যায়। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে আজ সমস্ত উইকেটই খুইয়ে বসে তারা। নির্ধারিত ২০ ওভারে শনিবার তাদের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৪২ রান।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন সামসি এবং প্রিটোরিয়াস। দুটি উইকেট তুলে নেন নকিয়া। যদিও শারজার এই কঠিন পিচে ১৪২ রান তাড়া করাও সহজ হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। বরং মাঠে নেমে এদিন প্রথম থেকেই উইকেট হারাতে শুরু করে তারাও। কুইন্টন ডি কক, হেনরিক্স এবং ভ্যান ডার ডুসানকে আজ মাত্র ৪৯ রানেই হারিয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর অবশ্য মাক্রামকে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন ক্যাপ্টেন বাভূমা। কিন্তু ১৯ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি মাক্রামও। বরং হাসারাঙ্গা, চামিরাদের বোলিংয়ের সামনে আজ যথেষ্ট অসহায় দেখাচ্ছিলো আফ্রিকান ব্যাটিং লাইনআপকে।

যার জেরে ধীরে ধীরে চাপ বাড়তে থাকে বাভুমার উপরেও। ৪৬ বলে ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেও এ দিন আর ম্যাচ শেষ করে যেতে পারেননি তিনি। তবে হাসারাঙ্গার বলে তিনি আউট হলেও আজ নিজের দায়িত্ব পালনে কোন ভুল করেননি দক্ষিণ আফ্রিকার বহু যুদ্ধের নায়ক ডেভিড মিলার। শেষ ওভারে লাহিরু কুমারা বলে পরপর দুটি ছয় মেরে ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেন তিনি। শেষপর্যন্ত তার ২৩ রানের দুরন্ত ক্যামিওর দৌলতেই ৪ উইকেটে এই ম্যাচ জিতে নিজেদের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখে দক্ষিণ আফ্রিকা।

 

Related Articles