টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

করোনাকালে জাতি-ধর্মের উল্লেখ করে ৬১ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ায় নতুন বিতর্কে রাজ্য সরকার

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ করোনাকালে মানবিকতার দিক থেকে বিচার করে ৬১ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন্দিদশায় স্ট্যান স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পরবর্তীতেই ষাটোর্ধ্ব বন্দিদের পরিস্থিতি বিচার করে, তাঁদের মুক্তি দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee)।

সেই মর্মে সোমবার ৬৩ জন বন্দিকে মুক্তি দেয় রাজ্য সরকার। কিন্তু বন্দিদের মুক্তি দিলেও, সরকারি নির্দেশে বন্দিদের জাতি-ধর্মের উল্লেখ থাকায় ঘটে বিপত্তি। এই বিষয়ে প্রতিবাদে সরব হয় বিরোধীরা। মুক্তির ক্ষেত্রে কেন বন্দিদের জাতি ধর্মের উল্লেখ করা হল?

জনজাতি অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ স্ট্যান স্বামী বন্দিদশায় শেষদিকে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তারউপর করোনা আবহে করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়ায় তাঁকে ৪ ঠা জুলাই ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখলেও, ৫ ই জুলাই তিনি মারা যান। আর তারপর থেকেই তোলপাড় শুরু হয় গোটা দেশ জুড়েই।

তখনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ‘বন্দিদশায় স্ট্যান স্বামী যেভাবে মারা গেলেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই সময় তাঁকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক কারণে যাঁদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের মুক্তি দেওয়ার জন্য আমার সকলে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি লিখেছি। ৬০ বা ৬৫ উর্দ্ধ যারা রয়েছেন জেলে, তাঁদের মুক্তি দেওয়া হবে’।

এরপরই সরকারের যুক্তি, কোভিড পরিস্থিতিতে মানবিকতার স্বার্থে স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে ‘রাজ্য সেন্টেন্স রিভিউ বোর্ড’ বন্দি মুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়। সেইমত বয়স ৬০ পেরিয়েছে এবং যাঁরা ১৪ বছর জেল খাটছেন, এমন ৬১ জনকে মুক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৫৫ বছর বয়সী ২ জন মহিলাও ছিলেন।

কিন্তু এই আসামীদের ছেড়ে দেওয়ার পর সরকারি নির্দেশিকায় বন্দিদের জাতি-ধর্মের উল্লেখ থাকায়, প্রতিবাদের সরব হয় বিরোধীরা। বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘চিরকাল জানতাম, অপরাধীর কোনও ধর্ম বা জাত হয় না। কিন্তু বর্তমান শাসক দল সেই ধারণা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। অন্যদিকে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর কথায়, ‘পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা থেকে শুরু করে জেলের বন্দী মুক্তি, সবেতেই ধর্মের উল্লেখ করা যেন রাজ্য সরকারের কাজ হয়ে গেছে’।

Related Articles

Back to top button