টাইমলাইনখেলাক্রিকেট

‘স্কাই হ্যাজ নো লিমিটস’, অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করে ভারতকে ম্যাচ জিতিয়ে প্রমাণ করলেন সূর্যকুমার যাদব

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্ক: অভাবনীয় ব্যাটিং করলেন সূর্যকুমার যাদব। আর ডাকনাম স্কাই। আর আজ যেন তিনি সত্যি প্রমাণ করলেন ‘স্কাই হ্যাজ নো লিমিটস’। গোটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিনি রান পাচ্ছিলেন না। ওয়ানডে সফরের চূড়ান্ত ব্যর্থতার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেও ফ্লপ ছিলেন এই মুম্বাইকর। আজ প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ভারতের সামনে ১৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং টার্গেট রেখে দিয়েছিলেন ক্যারিবিয়ানরা। গত ২ ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে দুই একজন ব্যতিক্রম বাদে কেউই খুব একটা ভালো পারফরম‍্যান্স করতে পারেননি। ফলে কিছুটা হলেও চাপে ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শুরুর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। সেন্ট কিটসে গত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে হারতে হয়েছিল ভারতকে। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিও সেন্ট কিটসের মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই খুব সম্ভবত গত ম্যাচের থেকে শিক্ষা নিয়েই প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হিটম্যান। দলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়েছিল রবীন্দ্র জাদেজার জায়গায় দলে ফিরেছিলেন ফর্মে থাকা দীপক হুডা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুটা ভালো করলেও মাঝের ওভার গুলিতে দুর্দান্ত বোলিং করে রানের গতি একদমই আটকে দিয়েছিলেন রবি অশ্বিন এবং হার্দিক পান্ডিয়া। নিজের ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন হার্দিক। উইকেট না পেলেও কৃপণ বোলিং করে নিজের ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়েছিলেন অশ্বিন। অর্শদীপ সিং এবং ভুবনেশ্বর কুমারও অন্যান্য দিনের মতো দুর্দান্ত না হলেও ভদ্রস্থ বোলিং করেছিলেন। কিন্তু আবেশ খানের তিনটি ওভারের দৌলতে ভারতের সামনে ১৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং টার্গেট রেখেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। একটি উইকেট পান অর্শদীপ সিংও।

এরপর ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই একটি বড় ধাক্কা খায় ভারতীয় দল। রোহিত শর্মাকে দুর্দান্ত ছন্দে দেখাচ্ছিলো। ৫ বল খেলে একটি চার এবং একটি ছক্কা সহ ১১ রান করে ফেলেছিলেন ভারত অধিনায়ক। কিন্তু তারপর পিঠের মাংসপেশিতে টান লাগার কারণে বাধ্য হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। পর ভারতের জয়ের ব্যাপারে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু তাদের যাবতীয় প্রশ্নের জবাব নিজের ব্যাট দিয়েই দিলেন সূর্যকুমার যাদব। ৪৪ বলে আর ৮টি চার ও ৪ টি ছক্কা সহ তিনি ৭৬ রানের একটি মারকাটারি ইনিংস খেলেন। থাকে শুধুমাত্র সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছিলেন শ্রেয়স আইয়ার (২৪)। সূর্যকুমার যাদব এমন কিছু কিছু শর্ট খেলেন যাকে ক্রিকেটীয় পরিভাষা দিয়ে ব্যাখ্যা করা শক্ত। শ্রেয়স আউট হওয়ার পরেই পন্থের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। ১৫ তম ওভার অবধি তিনি মাঠে ছিলেন। তিনি যখন মাঠ ছাড়েন তখন ভারতের জয় কেবলমাত্র সময়ের অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত রিশভ পন্থ এবং দীপক হুডা এক ওভার বাকি থাকতেই ভারতকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। দুর্দান্ত ব্যাটিং এর পুরস্কার স্বরূপ ম্যাচের সেরাও হয়েছেন সূর্যকুমার। সিরিজে আপাতত ২-১ ফলে এগিয়ে গেল ভারত।

Related Articles