টাইমলাইনটাকা পয়সাভারত

ব্যাঙ্কে মাত্র ৯৭০ টাকা, এদিকে বেতন ফেরতের ২৩ লক্ষের চেক দান! ফের শিরোনামে বিহারের শিক্ষক

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিহারের নীতীশ্বর কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. লালন কুমার দীর্ঘ ২ বছর ৯ মাসের বেতন ফেরত দিতে চেয়ে রীতিমতো রাতারাতি লাইমলাইটে উঠে এসেছিলেন। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়া জুড়েও চলছিল তাঁকে নিয়ে প্রশংসার ঝড়। এক কথায়, তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন সকলেই। কিন্তু, এই আবহেই এবার কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার কলেজে তাঁকে নিয়ে এক বৈঠক সম্পন্ন হওয়ার পর আসল তথ্যটি জানা গিয়েছে। বৈঠকের পর সামনে এসেছে, অধ্যাপক লালন কুমার মূলত অন্য কিছু বলতে চেয়েছিলেন। যা গণমাধ্যমগুলি ভুল ভাবে পরিবেশন করেছে বলে জানান তিনি। মূলত, ওই বৈঠকটি হওয়ার পরেই সমগ্ৰ বিষয়টি কার্যত উল্টে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, সামনে এসেছে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত এক অবাক করা তথ্যও।

উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হওয়া ওই বৈঠকে ড. সরিতা কুমারী সভাপতিত্ব করেন। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ড. লালন কুমার। ওই বৈঠকে জানানো হয়, তাঁর বক্তব্য অতিরঞ্জিত হয়ে গিয়ে ইন্টারনেট-মিডিয়া, সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করেছে। এই প্রসঙ্গে ইউনিয়নের কলেজ সেক্রেটারি ডাঃ রবি রঞ্জন বলেন, ক্লাসে আসা পড়ুয়াদের নিয়ে প্রফেসর লালনের কোনো সমস্যা নেই। বরং তিনি মূলত পিজিতে স্থানান্তরিত হতে চান। আর এটাই তাঁর ইচ্ছে ছিল।

প্রথমে কি জানা যায়:
মূলত, প্রথমে জানা গিয়েছিল যে, ক্লাসে পড়ুয়া না আসায় প্রফেসর লালন কুমার পড়াতে পারেননি। যে কারণে তিনি দীর্ঘ ২ বছর ৯ মাসের বেতন বাবদ প্রায় ২৩ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফেরত দিতে চান। পাশাপাশি, রেজিস্ট্রারের কাছে ২৩ লক্ষ ৮২ হাজার ২২৮ টাকার চেকও হস্তান্তর করেন। এমতাবস্থায়, রেজিস্ট্রার তাঁর আবেদন গ্রহণ করে চেকটি ফেরত দিয়ে দেন।

পাশাপাশি, ওই অধ্যাপক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, “আমার যেখানে পোস্টিং হয়েছে সেখানে ক্লাস চলছে না। আমি এতে সন্তুষ্ট নই। আমাদের ক্লাসে প্রায় ১৩০ জন পড়ুয়া রয়েছে। কিন্তু তারা আসে না। আমি চাই ওই নির্দিষ্ট সময়ের সমস্ত বেতন ফেরত নেওয়া হোক এবং এতেই আমি স্বস্তি পাব”

যদিও, গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উঠে এসেছে অন্যরকম তথ্য। সর্বোপরি, ওই বিপুল অঙ্কের টাকা ফেরত দিতে চাইলেও দেখা যায় যে, লালন কুমারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পড়ে রয়েছে মাত্র ৯৭০ টাকা। আর এই ঘটনাতেই চোখ কপালে উঠেছে সবার। পাশাপাশি, এত কম টাকা থাকা সত্বেও তিনি কিভাবে চেক জমা দিয়েছিলেন সেই বিষয়েও এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Related Articles