টাইমলাইনটাকা পয়সাআন্তর্জাতিক

ভয়াবহ পরিস্থিতি বাংলাদেশে! এক লাফে পেট্রোলের দাম বাড়ল ৪৪ টাকা, ৫০% দাম বাড়ল ডিজেলেরও

বাংলা হান্ট ডেস্ক: চলতি বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia-Ukraine War) প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে। এমনকি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিলক্ষিত হয়েছে মুদ্রাস্ফীতির আবহও। এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকার এই মুদ্রাস্ফীতিকে উল্লেখ করেই জ্বালানি তেলের দাম বিশাল ব্যবধানে বাড়িয়েছে। এদিকে, হঠাৎ করে এক লাফে এই দাম বৃদ্ধির ফলে রীতিমতো নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের।

জানা গিয়েছে, সেখানে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ৪২.৫ শতাংশ বেড়ে আপাতত পৌঁছে গিয়েছে ১১৪ টাকায়। শুধু তাই নয়, বাড়ানো হয়েছে পেট্রোলের দামও। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার পেট্রোলের ক্ষেত্রে মূল্যের হার ৫১.১৬ শতাংশ বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৩০ টাকা। পাশাপাশি, অকটেনের দাম ৫১.৬৮ শতাংশ বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ১৩৫ টাকায়।

জানিয়ে রাখি যে, এর আগে বাংলাদেশে ১ লিটার পেট্রোলের দাম ছিল ৮৬ টাকা। পাশাপাশি, প্রতি লিটার ডিজেল ও অকটেনের দাম ছিল যথাক্রমে ৮০ এবং ৮৯ টাকা। এদিকে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এই প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে যে, গত ছ’মাস যাবৎ বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পেট্রোপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ৮ হাজার ১৪ কোটি টাকারও বেশি লোকসান করেছে। আর সেই কারণেই কার্যত বাধ্য হয়ে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদ জানিয়েছেন, “মানুষের ওপর এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনা করে তা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে আমরা নিয়মিত দামের মধ্যে সমন্বয় সাধন করব। বিশ্বব্যাপী দাম কমলে দেশীয় বাজারে দামও একই হারে কমবে।” এছাড়াও, তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারে যখনই জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারের ওপরে বেড়ে গিয়েছিল তখন থেকেই সরকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কারণ জীবনযাত্রার ব্যয় কম রাখতে দামে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। আমি মনে করি, বিপুল ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আমাদের বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, সরকার কৃষি খাতে ডিজেলের জন্য ভর্তুকি অব্যাহত রাখবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের বেশির ভাগই পরিবহণ খাতে ব্যবহৃত হয়। এই প্রসঙ্গে নজরুল বলেন, মূল্যবৃদ্ধি এই খাতের ব্যয়ের ওপর তেমন প্রভাব ফেলবে না। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর প্রতি কিলোমিটারে বাসের ভাড়া এক থেকে দুই টাকা বাড়তে পারে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, তাঁরা এই প্রসঙ্গে সড়ক ও নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ এবং পরিবহণ মালিকদের সঙ্গে আলোচনার কথা ভাবছেন।

এদিকে, বাংলাদেশে অধিকাংশ ব্যক্তিগত গাড়ি সিএনজি দ্বারা চালিত হয়। কিন্তু মোটরসাইকেল অকটেন বা পেট্রোলের সাহায্যে চলে। এমতাবস্থায়, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি সরাসরি বাস, ট্রাক এবং পণ্য পরিবাহী যানবাহনের ভাড়াকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন সবাই। এমনকি, লঞ্চের ভাড়াও বাড়বে। এদিকে, পণ্য পরিবহণের খরচ বেশি হলে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, মাছ ধরার ট্রলারও চলে ডিজেলে। সর্বোপরি, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার প্ল্যান্ট বা জেনারেটর চালানোর খরচ বাড়বে। যার ফলে কারখানাগুলিতে উৎপাদন প্রভাবিত হতে পারে।

Related Articles

Back to top button