টাইমলাইনভারত

৯ বছর আগে অপহৃত হওয়া বালিকাকে খুঁজে বের করলেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্মী! অবাক করবে এই কাহিনি

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ২২ জানুয়ারি,২০১৩; সকাল ৮ টা বেজে ১৫ মিনিট। নীল স্কার্ট পরা একটি ৭ বছর বয়সী বালিকা তার ভাইয়ের সাথে স্কুলে যাচ্ছিল। সেই সময়ে কাছে থাকা টাকা নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে ভাই বাড়িতে ফিরলেও স্কুল শেষ হয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেনি পূজা গৌড় নামের ওই বালিকা। এমতাবস্থায়, পরিবারের লোকজন বারংবার পুলিশের সহায়তায় তাকে খোঁজার চেষ্টা করলেও মেলেনি কোনো লাভ। যদিও, শেষপর্যন্ত ঘটল এক “চমক”! প্রায় ৯ বছর পর একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের সৌজন্যে খোঁজ পাওয়া গেছে পুজার।

“গার্ল নম্বর ১৬৬”: জানা গিয়েছে, ওইদিন পূজা বাড়িতে না ফিরে আসায় তার পরিবারের সদস্যরা দাদাভাই নওরোজি (ডিএন) নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এই মামলাটি নেন সাব ইন্সপেক্টর রাজেন্দ্র ভোঁসলে। এমতাবস্থায়, পুলিশের কাছে নিখোঁজ মেয়েদের রেকর্ডে, পূজার নাম ১৬৬ নম্বরে নথিভুক্ত করা হয়। এই প্রসঙ্গে “দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস”-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে যে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে, ডিএন নগর থানার অধীনে থাকা একটি এলাকা থেকে ১৬৬ জন মেয়ে নিখোঁজ হয়েছিল। এদিকে, ২০১৫-র মে মাস পর্যন্ত, নিখোঁজ মেয়েদের মধ্যে ১৬৫ জনের সন্ধান পাওয়া গেলেও পূজাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এমতাবস্থায়, পূজার কেসের দায়িত্বে থাকা অফিসার ইনচার্জ রাজেন্দ্র ভোঁসলে ২০১৫-র মে মাসে অবসর গ্রহণ করেন। এদিকে, পূজা নিখোঁজ হওয়ার পর ততদিনে প্রায় দু’বছর কেটে যাওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা কার্যত আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। যদিও, পূজার খোঁজে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন রাজেন্দ্র।

আশা ছাড়েননি এক পুলিশকর্মী: জানা গিয়েছে, সাব ইন্সপেক্টর ভোঁসলে অবসর নিলেও পূজাকে খুঁজে না পাওয়ার জন্য তাঁর মনে একটা দুঃখ ছিল। এমনকি, তিনি সবসময় তাঁর কাছে পূজার ছবি রাখতেন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে পূজা বেঁচে আছে এবং একদিন তিনি অবশ্যই তার খোঁজ পাবেন। এমতাবস্থায়, তাঁর কয়েকজন সহকর্মী জানান, ভোঁসলে পূজাকে এমনভাবে খুঁজছিলেন যেন তিনি তাঁর নিজের মেয়েকে খুঁজছেন।

৯ বছর পর পূজার দেখা মিলল: জেনে অবাক হবেন যে, নিখোঁজ থাকার ৯ বছর পর বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরেই পাওয়া যায় পূজাকে। এই প্রসঙ্গে পুলিশ জানায়, ৯ বছর আগে ওই দিন পূজা ও তার ভাই রোহিতের মধ্যে টাকা নিয়ে ঝগড়া হওয়ায় রোহিত পূজার চেয়ে একটু বেশি দূরে এগিয়ে যায়। সেই সময়ে হ্যারি ডি’সুজা নামের একজন ইলেকট্রিশিয়ান আইসক্রিমের অজুহাতে পূজাকে অপহরণ করেছিলেন।

জানা গিয়েছে হ্যারি ডি’সুজা ও তার স্ত্রী সোনি ডি’সুজার কোনো সন্তান না থাকায় পূজাকে সঙ্গে নিয়ে যান তাঁরা। দু’জনেই পুজোর একটি নতুন নামও দিয়েছিলেন। এদিকে, পূজার নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তে স্থানীয় লোকজনও তাঁর খোঁজ শুরু করেন। তখন ডি’সুজা পূজাকে মহারাষ্ট্র থেকে কর্ণাটকে নিয়ে গিয়ে সেখানকার একটি বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি করান।

যদিও, পরবর্তীকালে ডি’সুজা এবং তাঁর স্ত্রীর একটি সন্তান হলে, পূজার প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে যায়। শুধু তাই নয়, পূজাকে মুম্বাইয়ে ফিরিয়ে এনে তাঁদের সন্তানের দেখাশোনার কাজ করানো হত। এমনকি, আশেপাশের বাড়িতেও কাজ করত পূজা। এমতাবস্থায়, জুহুর রাস্তায় কাজ করার সময়, পূজা একজন মহিলাকে বিস্তারিতভাবে সব জানায়।

এদিকে, পূজার এই কথা শোনার পর, প্রমিলা দেবেন্দ্র নামের ওই মহিলা গুগল মারফত পূজার নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন খুঁজে পান। এমনকি, তিনি একটি পোস্টারও খুঁজে পেয়েছিলেন যেখানে চারটি ফোন নম্বর দেওয়া ছিল। যদিও, সেগুলির ৩ টি নম্বরে ফোন করলেও কেউ ফোন ধরেনন নি। এমতাবস্থায়, প্রমীলা চতুর্থ নম্বরে ফোন করলে পূজার প্রতিবেশী মোহাম্মদ রফিক ফোনটি ধরেন।

তারপরেই ভিডিও কলে পূজাকে দেখে এবং পূজার মায়ের সঙ্গে কথা বলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশের সহায়তায় পরিবারকে ফিরে পান পূজা। জানা গিয়েছে, পুলিশ ডি’সুজা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এবং ডি’সুজাকে পুলিশ হেফাজতেও পাঠানো হয়েছে। এদিকে, সোনির ৬ বছরের কন্যা সন্তান থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সর্বোপরি, এই ঘটনায় অত্যন্ত খুশি হয়েছেন সাব ইন্সপেক্টর ভোঁসলে। পাশাপাশি, তিনি বলেন, “আমি যখন প্রথম ফোন পাই তখন বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমি অবসর নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রচুর চেষ্টা করেছি। আমি কন্যা হারানোর যন্ত্রণার মত খুঁজেছি তাকে। এভাবেই মনুষ্যত্ব বেঁচে থাক।”

Related Articles