টাইমলাইনভারত

৪ বছর লিভ-ইনের পরেও বিয়েতে অমত! ক্ষুর দিয়ে ফিরোজের গলা কেটে খুন প্রীতির

বাংলা হান্ট ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) গাজিয়াবাদ (Ghaziabad) থেকে এবার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, গত শনিবার সেখানে এক মহিলা তাঁর প্রেমিককে খুন করে মৃতদেহটিকে সরিয়ে ফেলার আগেই ধরা পড়ে যান। পাশাপাশি, পুলিশের কাছে ওই খুনের কথা স্বীকারও করেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে ওই মহিলা জানান যে, তাঁর প্রেমিক তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেছিলেন। আর সেই কারণেই তিনি এহেন সিদ্ধান্ত নেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, প্রীতি ও ফিরোজ নামের ওই যুগল গত চার বছর ধরে “লিভ-ইন” সম্পর্কের মধ্যে ছিলেন। এমতাবস্থায়, বিয়ে নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া লেগে থাকত। গত শনিবারও এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এদিকে, এরপরই প্রীতি ক্ষুর দিয়ে ফিরোজের গলা কেটে দেন। শুধু তাই নয়, এই নৃশংস খুনের পর ফিরোজের মৃতদেহ প্রায় ২৪ ঘণ্টা যাবৎ ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রাখা হয়। তারপর ওই মৃতদেহ স্যুটকেসে ভরে গাজিয়াবাদ রেল স্টেশনের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রীতি।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেই ঘাবড়ে যান তিনি: জানা গিয়েছে, রবিবার রাত্রি সাড়ে ৩ টে নাগাদ নিজের ফ্ল্যাটের নিচে অটোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন প্রীতি। তারপর হঠাৎই সেখানে পুলিশ এসে হাজির হয়। আর এতেই ভয় পেয়ে যান তিনি। এমতাবস্থায়, তাঁকে দেখে পুলিশের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুরো বিষয়টি সামনে আসে। জানা গিয়েছেন, প্রীতির প্রেমিক ছিলেন একজন হেয়ার ড্রেসার। এমতাবস্থায়, ফ্ল্যাটে চুল কাটার জিনিসপত্র থাকত।

প্রীতি বিবাহিতা, স্বামীকে ছেড়ে ফিরোজের সাথে বসবাস করতেন: এই প্রসঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, দীপক যাদব নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রীতির বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিবাদের কারণে স্বামীকে ছেড়ে চলে যান প্রীতি। এমতাবস্থায়, প্রীতি প্রায় ৪ বছর ধরে ফিরোজের সঙ্গে লিভ-ইনে থাকছিলেন। ফিরোজ সম্বলের বাসিন্দা। তাঁরা দু’জনেই গাজিয়াবাদের টিলা মোড় এলাকার তুলসী নিকেতনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন।

ট্রেনে স্যুটকেস রাখার পরিকল্পনা ছিল: গত শনিবার গভীর রাতে ফিরোজকে হত্যা করে রবিবার বিকেলে গাজিয়াবাদের সিলামপুর এলাকার বাজারে যান প্রীতি। সেখানে একটা বড় ধরণের স্যুটকেস কিনে ফ্ল্যাটে ফিরে তিনি ফিরোজের মৃতদেহ সেই স্যুটকেসে রেখেছিলেন। এরপর রেলস্টেশনে পৌঁছে স্যুটকেসটি ট্রেনে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি।

সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, রবিবার রাত সাড়ে ৩ টের দিকে ওই স্যুটকেসটি নিয়ে নিজের ফ্ল্যাট থেকে নেমে অটোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন ওই মহিলা। এরই মধ্যে নজরদারির দায়িত্বে থাকা পুলিশ সেখানে পৌঁছে যায়। আর তারপরই পুরো বিষয়টি সামনে আসে।

ফিরোজের কথায় রেগে যান প্রীতি: জানা গিয়েছে পুলিশকে প্রীতি জানিয়েছেন, “আমি বেশিদিন লিভ-ইন-এ থাকতে চাইনি। বারংবার ফিরোজকে বিয়ে করতে বলেছিলাম। শনিবারও একই বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। ফিরোজ আমাকে বলে, আমি খুব বুদ্ধিমতী। এমনকি, আমি আমার পূর্বের স্বামীর হতে পারিনি বলেও ফিরোজ খোঁটা দেয়। তারপরেই আমি রেগে গিয়ে ফিরোজের গলা কেটে দিই।”

Related Articles