টাইমলাইনভারত

বোনের বিয়ের খরচ সামলাতে শুরু করেছিলেন ডেলিভারি বয়ের চাকরি! দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল ভাই

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইচ্ছে ছিল ধুমধাম করে মহাসমারোহে নিজের বোনের বিয়ে দেবেন। এমনকি, সেইজন্য সম্প্রতি শুরু করেছিলেন ডেলিভারি বয়ের চাকরিও। কিন্তু, সেই আশা পূরণ হলনা তাঁর। বরং বোনের বিয়ের আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন এক যুবক। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হল তাঁকে।

জানা গিয়েছে, গত ১৬ মে রাতে দিল্লির দ্বারকায় এক সড়ক দুর্ঘটনার জেরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন ১৯ বছরের করণ রাজু। কিন্তু, দু’দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করলেও শেষরক্ষা হলনা তাঁর। গত ১৮ মে মৃত্যু হয় করণের। মূলত, বোনের বিয়ের জন্য বিপুল খরচ সামলাতে নিজেই কাজ শুরু করেছিলেন করণ। মাত্র দু’মাস ডেলিভারি বয়ের কাজ করার পর হঠাৎই মৃত্যু হল তাঁর।

এই প্রসঙ্গে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ১৬ মে রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে এবং গত ১৮ মে করণ মারা যান। অনলাইন গ্রোসারি কোম্পানি Zepto-র ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করতেন করণ। করণের বাবা সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, “করণ দু’মাস আগে Zepto-তে চাকরি শুরু করেছিল। সে পরিবারকে সাহায্য করার জন্যই এই কাজ শুরু করে। আগামী নভেম্বরে করণের বোনের বিয়ে ছিল। তারই খরচ সামলাতে কাজ শুরু করেছিল সে।”

এদিকে, এই দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই একটি বিবৃতির মাধ্যমে Zepto জানিয়েছে, “আমরা অবিলম্বে ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাহায্য করছি। এছাড়াও, আমরা ৮ লক্ষ টাকা বীমা অনুদান দিয়েও সাহায্য করছি। এই দুঃসময়ে আমরা পরিবারের পাশে আছি।”

যদিও, এই দুর্ঘটনার ফলে রীতিমতো প্রশ্নের মুখে পড়েছে Zypto কর্তৃপক্ষ। এমনকি, সংস্থার “আর্লি ডেলিভারি” নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। মূলত, এই সংস্থা দাবি করে যে, অর্ডার করার ১০ মিনিটের মধ্যেই জিনিস হাতে পেয়ে যাবেন ক্রেতারা। আর যে কারণে চাপ বেড়ে যায় ডেলিভারি বয়দের মধ্যে। এমনকি, দ্রুত অর্ডার পৌঁছে দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকারও হতে হয় তাঁদের।

এই প্রসঙ্গে নেটমাধ্যমেও নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। একজন ব্যবহারকারী টুইটারে লিখেছেন, “আপনি যদি ১০ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারি পেতে চান, তাহলে আরও গুরুতর দুর্ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকুন।” পাশাপাশি, বরুণ প্রতাপ সিং নামের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ভবিষ্যতেও এমনটা হতে পারে। ১০ মিনিটে জিনিসপত্র পেতে গিয়ে হারিয়ে যেতে পারে আরও মূল্যবান জীবন। ১০ লক্ষ টাকায় কারও জীবন ফিরে আসবে না। আপনার বাড়ির কাছাকাছি দোকান থেকে জিনিস কিনুন।” এছাড়াও, ধীরাজ পান্ডে নামের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ওই পরিবারের জন্য আমি দুঃখিত। জানি না কেন আমাদের ১০ মিনিটের মধ্যেই ডেলিভারি দরকার হয়।”

এদিকে, করণের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা রুজু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, করণের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর থাকায় তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা যায়নি। তবে, বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন সকলেই।

Related Articles

Back to top button