টাইমলাইনভারতসাফল্যের কাহিনি

তিনজন IAS, একজন IPS! নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এই চার ভাইবোন

বাংলা হান্ট ডেস্ক: আমাদের দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার প্রার্থী IAS কিংবা IPS হওয়ায় জন্য পরীক্ষায় বসেন। আর এই পরীক্ষাতেই সফলতা লাভের জন্য বছরের পর বছর ধরে কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। যদিও, তাঁদের মধ্যে মাত্র কিছু জনই  যোগ্যতার ভিত্তিতে সফল হতে পারেন। সেই কারণেই UPSC (Union Public Service Commission) পরীক্ষাকে দেশের অন্যতম কঠিন একটি পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত করা হয়। তবে, বর্তমান প্রতিবেদনে আজ আমরা এমন একটি প্রসঙ্গ আপনাদের সামনে উপস্থাপিত করব যা জানার পর রীতিমতো অবাক হয়ে যাবেন সকলেই।

মূলত, আমরা চার ভাইবোনের ব্যাপারে আপনাদের জানাবো। যাঁরা ইতিমধ্যেই তৈরি করেছেন এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। একদম মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই চার জনের মধ্যে তিন জন হলেন IAS এবং এক জন হলেন IPS অফিসার। হ্যাঁ, শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটা কিন্তু একদমই সত্যি। আর এহেন অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ের মিশ্র ভাইবোনেরা।

জানা গিয়েছে, ওই চারজনের মধ্যে দুই ভাই এবং দুই বোন রয়েছেন। যাঁদের মধ্যে যোগেশ হলেন বড়, ক্ষমা হলেন মেজো, মাধুরী সেজো এবং সবথেকে ছোট হলেন লোকেশ। বর্তমানে যেখানে পরিবারের কোনো সদস্য IAS কিংবা IPS অফিসার হয়ে গেলেই তা এক দৃষ্টান্ত মনে করা হয় সেখানে একই পরিবার থেকে চার ভাইবোনের এহেন সাফল্য এক কথায় নজিরবিহীন।

চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় যোগেশ হলেন একজন IAS অফিসার। তিনি লালগঞ্জ থেকে তাঁর স্কুলের পড়া শেষ করে মতিলাল নেহরু ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। তারপরে তিনি চাকরিও পেয়ে যান। কর্মরত অবস্থাতেই UPSC-জন্য প্রস্তুতি শুরু করে ২০১৩ সালে সফল হন তিনি।

পাশাপাশি, যোগেসের বোন ক্ষমা UPSC পরীক্ষায় তিন বার ব্যর্থতার মুখোমুখি হলেও চতুর্থ বার পরীক্ষায় পাশ করেন। বর্তমানে একজন IPS আধিকারিক হয়ে কাজ করছেন তিনি। এছাড়াও, তাঁর পরের বোন মাধুরী লালগঞ্জ থেকে স্নাতক করার পর এলাহাবাদ থেকে স্নাতকোত্তর করেন। তারপর UPSC পরীক্ষায় বসে তিনি ২০১৪-তে ঝাড়খণ্ড ক্যাডারের IAS হন। এমতাবস্থায়, তাঁদের ভাই লোকেশও UPSC পাশ করে ২০১৫ সালে বিহার ক্যাডারের IAS হন।

জানা গিয়েছে, এই চার ভাইবোনের বাবা অনিলপ্রকাশ মিশ্র গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ম্যানেজার ছিলেন। সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে তিনি কখনও কোনো আপস করেননি। পাশাপাশি, ছেলে মেয়েদের এই বিরল কৃতিত্বে স্বাভাবিকভাবেই খুব খুশি তিনি। এই প্রসঙ্গে অনিল বলেন যে, “আমি এর থেকে আর কিই বা চাইতে পারি! আমার সন্তানেরা আমার গর্ব।” এছাড়াও, তিনি বলেন, “আমি গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ম্যানেজার হওয়া সত্ত্বেও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার বিষয়ে কোনো খামতি রাখিনি। ওরা ভাল চাকরি পাক এটা সব সময় চাইতাম। তবে ওরাও কঠিন পরিশ্রম করেছে।”

Related Articles

Back to top button