টাইমলাইনভারত

‘এখানে ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রহণ করা হয়’, অভিনব কায়দায় চায়ের দাম নেন বেঙ্গালুরুর এই চা-ওয়ালা

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বেঙ্গালুরুকে মানুষ তার প্রযুক্তিগত উন্নতির জন্য চেনে। এই শহরকে দেশের সিলিকন ভ্যালি আখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই মাঝে মধ্যেই প্রযুক্তিগত নতুনত্বের জন্য খবরের শিরোনামে উঠে আসে এই শহর। কখনও অটোওয়ালা বা কখনও খাবারের ডেলিভারি বয়, মাঝে মধ্যেই তাঁরা এমন কিছু ঘটিয়ে ফেলেন যা তাঁদের এনে দেয় প্রচারের আলোয়। এ বার এমনই এক চা-ওয়ালার ঘটনা ভাইরাল হয়ে গেল নেটমাধ্যমে।

ডিজিটাল ভারতে এখন প্রায় সব জায়গাতেই ইউপিআই-এর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন হয়। দোকানদাররাও ধীরে ধীরে ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। দোকানে দোকানে কিউ আর কোড থাকা এখন একটি চেনা দৃশ্য। অন্যদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সি (Cryptocurrency) নিয়েও কম বয়সি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কৌতুহলের শেষ নেই। যদিও নতুন ধরনের এই কারেন্সি নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। বেঙ্গালুরুর এক চা-ওয়ালা ঠিক এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে উঠে এসেছেন খবরের শিরোনামে।

বেঙ্গালুরুর শুভম সাইনির দোকানে চা খেলে আপনি ইউপিআই ছাড়াও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে চায়ের দাম মেটাতে পারবেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই অভিনব দোকানের ছবি ভাইরাল হয়েছে। এমনিতে রাস্তার ধারে একটি সাধারণ চায়ের দোকান। সেখানে চা বিক্রি করছেন এক যুবক। তবে দোকানের ব্যানারে লিখে রেখেছেন ‘এখানে ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রহণ করা হয়’। আর এই কান্ডই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সমাজ মাধ্যমে। শুভম এই মুহূর্তে দেশের আইটি রাজধানীতে ভাইরাল।

শুভমের এই অভিনব কাজে স্বাভাবিকভাবেই চমকে গিয়েছেন সকলে। সাধারণ মানুষ থেকে গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব- সকলেই নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে শেয়ার করছেন ‘ক্রিপ্টো চা-ওয়ালা’র ছবি। সম্প্রতি তাঁর ছবি পোস্ট করেছেন আরপিজি গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি হর্ষ গোয়েঙ্কাও। শুভমের ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন ‘দ্য নিউ ইন্ডিয়া’ অর্থাৎ নতুন ভারত। ইতিমধ্যেই ১২০০-র বেশি টুইটার ব্যবহারকারী তাঁর পোস্ট লাইক করেছেন।

এছাড়াও অক্ষয় সাইনি নামক এক টুইটার ব্যবহারকারীও শুভমের ছবি শেয়ার করেছেন। সেই পোস্টটিও ভাইরাল হয়েছে। তবে অক্ষয়ের পোস্টে একজন কমেন্ট করে লিখেছেন, ‘উনি কী ভাবে ক্রিপ্টো গ্রহণ করছেন? কী ভাবে উনি লেনদেনের হার ঠিক করছেন? অনেক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।’ শুভম এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছন, প্রতিদিন ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য মার্কিন ডলারের সঙ্গে ভারতীয় টাকার হার মিলিয়ে চায়ের দামে হেরফের ঘটান তিনি। 

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে ক্রিপ্টো বাজারে এক বড়সড় ধস নামে। তাতে রাতারাতি কোটি কোটি টাকা হারান প্রচুর মানুষ। শুভম সাইনিও তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন। সেই ধসে তিনিও অনেকখানি অর্থ খুইয়ে এই চায়ের দোকানটি খুলেছিলেন। বেঙ্গালুরুর মরাঠাহল্লী এলাকায় ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে চায়ের দোকানটি খুলেছিলেন তিনি। বর্তমানে নিজের অভিনব লেনদেনের কায়দার জন্য খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন এই চা-ওয়ালা।

Related Articles