টাইমলাইনআন্তর্জাতিক

চিনকে পরাস্ত করতে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা বাইডেনের, লাভ হবে ভারতেরও

বাংলা হান্ট ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত রবিবার জি-৭ বৈঠকে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প ঘোষণা করেন। এমতাবস্থায় মনে করা হচ্ছে, জি-৭-এ বিডেনের এই ঘোষণা চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে (BRI) কড়া টক্কর দেবে। মূলত, ৬০০ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিলের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলিতে গ্লোবাল পরিকাঠামো কর্মসূচি সম্পন্ন করা হবে। বর্তমান প্রতিবেদনে আসুন জেনে নিই, এই প্রকল্পটি চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে কিভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

জি-৭-এ কি ঘটেছিল?
জার্মানির শ্লোস এলমাউতে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পুনরায় “গ্লোবাল পরিকাঠামো ও বিনিয়োগের জন্য অংশীদারিত্ব” নামের এক প্রকল্পের কথা বলেন। বাইডেন জানিয়েছেন, নিম্ন ও মধ্যবর্তী আয়ের দেশগুলিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০০ বিলিয়ন ডলারের অনুদান সহ ফেডারেল তহবিল এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগ বাড়াবে। যা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়নে সাহায্য করবে।

বাইডেন আরও বলেছেন, “আমি এটা জানিয়ে দিই যে এটা কোনো সাহায্য নয়। বরং, এটি এমন একটি বিনিয়োগ যা সবার জন্য রিটার্ন দেবে। এছাড়াও, এতে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বও লাভবান হবে।” পাশাপাশি বাইডেন বলেন, ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সম্পদ তহবিল এবং অন্যত্র থেকে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত সাহায্যও আসতে পারে।

এই প্রসঙ্গে ইউরোপিয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেইন জানিয়েছেন, চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের একটি টেকসই বিকল্প গড়ে তুলতে ইউরোপ ৩০০ বিলিয়ন ইউরো সংগ্রহ করবে। উল্লেখ্য যে, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ পরিকল্পনাটি ২০১৩ সালে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চালু করেছিলেন। যদিও, ওইদিন সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন উপস্থিত ছিলেন না, তবে তাঁদের দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, ইতালি, কানাডা এবং জাপানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

সদস্য দেশগুলি চিনের পরিকল্পনার সুবিধা পায়নি:
মূলত, চিন তার বিনিয়োগ পরিকল্পনার মাধ্যমে এশিয়া থেকে ইউরোপে প্রাচীন সিল্ক রোড বাণিজ্য রুটের একটি আধুনিক সংস্করণ নির্মাণের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০০ টিরও বেশি দেশে বিনিয়োগ করেছে। এমতাবস্থায়, হোয়াইট হাউসের মতে, চিনের এই পরিকল্পনায় উন্নয়নশীল দেশগুলো খুব কমই সুফল পেয়েছে।

পাশাপাশি, বাইডেন বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের তথ্যও দিয়েছেন। যেগুলির মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য বিভাগ, ইউএস এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাঙ্ক, মার্কিন ফার্ম আফ্রিকা গ্লোবাল শেফার এবং মার্কিন প্রকল্প ডেভেলপার সান আফ্রিকার সহায়তায় অ্যাঙ্গোলায় ২ বিলিয়ন ডলারের সৌর উন্নয়ন প্রকল্প।

জি-৭ কিভাবে চিনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতে, গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্ল্যানের অধীনে ২০২৭ সালের মধ্যে ৬০০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে। আমেরিকার মতে, যেসব দেশ এই প্রকল্পে যুক্ত হবে তারা নিজেরাই কোম্পানিগুলির সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে। একই সঙ্গে বিআরই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত দেশগুলির রাজনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও উঠেছে চিনের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে, চিনের ষড়যন্ত্র এড়াতে দেশগুলির কাছে এখন নতুন বিকল্প থাকবে।

উল্লেখ্য যে, গত বছর জি-৭ বৈঠকে গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার পার্টনারশিপ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এমতাবস্থায়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিনের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলিতে সড়ক ও বন্দরের মতো মৌলিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। অন্যদিকে বিআরই প্রকল্পের মাধ্যমে সব দেশকে ঋণের ফাঁদে ফেলেছে চিন।

এতে ভারত কিভাবে লাভবান হবে?
মূলত, জি-৭ হল বিশ্বের ৭ টি বৃহত্তম এবং উন্নত অর্থনৈতিক দেশগুলির একটি গ্রুপ। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং ব্রিটেন। তবে, ভারত এর সদস্য দেশ নয়। যদিও, জি-৭-এ ভারতকে ধারাবাহিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কারণ, এই দেশগুলি বুঝতে পেরেছে আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভারতের সমর্থন প্রয়োজন। পাশাপাশি, ভারতও জি-৭-এর নতুন প্রকল্পের সুবিধা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আসলে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিকে ঋণের জালে আটকে রেখেছে চিন। শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও পাকিস্তান এর প্রধান উদাহরণ। ঋণের অজুহাতে চিন এইসব দেশের রাজনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও জানা গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button