টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

পাঁচ লক্ষ টাকা না দিলে ছাত্রীদের ধর্ষণ করা হবে! হুমকি প্রধান শিক্ষিকাকে! নাম জড়াল তৃণমূল নেতার

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা চেয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে হুমকি চিঠি দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতার ‘আপ্ত সহায়ক’-এর বিরুদ্ধে। শুধু তোলা চাওয়াই নয়, সময়ের মধ্যে তা দিতে না পারলে স্কুলে আগুন ধরানো সহ সেখানকার ছাত্রীদের ধর্ষণ করার হুমকি পর্যন্ত দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। বাঁকুড়া গার্লস হাইস্কুলের পক্ষ থেকে অবশ্য স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই হরপ্রসাদ বিশ্বাসকে বর্তমানে না চেনার দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা তীর্থঙ্কর কুণ্ডু। তৃণমূল দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও বর্তমানে বিরোধী দলগুলি এই ঘটনার পেছনে শাসকদলের হাত রয়েছে বলে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে।

অভিযোগ, গতকাল বেলা গড়াতে না গড়াতেই বাঁকুড়া গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুমনা ঘোষের নামে একটি চিঠি এসে পৌঁছায় এবং সেই চিঠিতে যে এক মারাত্মক হুমকি লেখা থাকবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি সুমনাদেবী। পরবর্তীতে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানান তিনি। এরপরই চিঠিটি আসে সামনে। যেখানে লেখা রয়েছে, “গত ভোটের ফলাফলের পর আমাদের বাঁকুড়া জেলার ছাত্র পরিষদের সভাপতি তীর্থঙ্কর কুণ্ডুর নেতৃত্বে আগামীদিনে ছাত্র পরিষদ ঢেলে সাজানোর জন্য আমাদের প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ অর্থ। তাই আপনাদের প্রত্যেককে জানানো হচ্ছে, আগামী 25 তারিখের মধ্যে 8714076776 নম্বরে যোগাযোগে পর 5 লক্ষ টাকা জমা করে দিন আর তা না হলে আপনাদের প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগানো হবে এবং ছাত্রীদেরকে প্রকাশ্যে ধর্ষণ এবং প্রাণনাশ করা হবে।”

চিঠির বিষয়বস্তু দেখেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় সুমনাদেবীর। সূত্রের খবর, এরপরই তিনি গোটা ঘটনাটি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান এবং পরবর্তীতে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্পূর্ণ ঘটনার দরুণ বর্তমানে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। সকলেই অভিযুক্তর কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন। এই প্রসঙ্গে বাম ছাত্র সংগঠনের সম্পাদক অনির্বাণ গোস্বামী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে খুন এবং ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে, তা নিন্দনীয়। বর্তমানে যে চিঠির কথা উঠে আসছে, তা মেনে নেওয়া যায়না। শিক্ষাক্ষেত্রে এই অরাজকতা আমরা হতে দেব না, প্রয়োজনে আন্দোলন করবো।”

অপরদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আমরা সকলেই পড়ুয়াদের পাশে রয়েছি। শিক্ষাক্ষেত্রে যেভাবে শাসকদল বর্তমানে গোটা বাংলায় অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, আমরা তা মেনে নেব না।”

যদিও বর্তমানে যার আত্মসহায়কের বিরুদ্ধে এহেন গুরুতর অভিযোগ, সেই তীর্থঙ্করবাবু অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিনতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “কয়েকদিন পূর্বে মেদিনীপুরেরব একটি কলেজে একই রকমের চিঠি পাঠানো হয় আর এবার বাঁকুড়া গার্লস হাইস্কুলেও একই ঘটনা ঘটল। আমি দুই ক্ষেত্রেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। তাছাড়া হরপ্রসাদ বিশ্বাস নামে কোনো ব্যক্তিকে আমি চিনিনা। যে এই কাজ করে থাকুক না কেন, আমাদের দলকে বদনাম করার জন্য এটা করা হয়েছে; অভিযুক্তর শাস্তির দাবি জানাই।”

Related Articles

Back to top button