টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ, কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ! বিপাকে তৃণমূল মুখপাত্র

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বর্তমান সময়টা একদম ভালো যাচ্ছে না! গতকালই সারদা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে বাংলার আদালত আর এবার ত্রিপুরা আদালতে কুণালের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল সেখানকার পুলিশ। অমরাবতী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তৃণমূল মুখপাত্রকে আগামী 30 শে মে সেখানে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই তৃনমূল কংগ্রেস ত্রিপুরাসহ দেশের একাধিক প্রান্তে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিজেদের অবস্থানকে আরো মজবুত করে তুলতে বড় বড় নেতা নেত্রীরা এই সকল রাজ্যে গিয়ে উপস্থিত হন। একইভাবে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও অতীতে ত্রিপুরা গিয়ে সেখানকার সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করেন যার মধ্যে ছিল সীতার মানসিক যন্ত্রণার প্রসঙ্গ। রামায়ণকে উদ্ধৃত করে সীতার মানসিক যন্ত্রণা তুলে ধরেন তিনি ত্রিপুরাবাসীদের সামনে আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মে আঘাত হানার অভিযোগে কুণালের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করে ত্রিপুরা পুলিশ। অবশ্য সেই সময় তৃণমূল নেতা পুলিশি জেরার মুখোমুখি হন এবং তাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেন বলেও দাবি করেন আর শেষ পর্যন্ত এই মামলায় এদিন তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল ত্রিপুরা পুলিশ।

এদিন এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, “আমি একজন হিন্দু। কোনো ধর্মকে আঘাত করার অভিপ্রায় নেই আমার। বর্তমানে রামের নাম নিয়ে রাজনীতির জন্য সীতার পরিণতির প্রশ্নই আমি সকলের সামনে তুলে ধরি।”

কুণালের বিরুদ্ধে অভিযোগ কি?
তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছিলেন, “অতীতে জয় সীতারাম বা সিয়ারাম কথাটি প্রচলিত থাকলেও পরবর্তীতে সেটিকে বিকৃত করে সীতাকে বাদ দেওয়া হয় এবং শ্রীরাম বলে সম্বোধন করা হয়।” এছাড়াও তিনি বলেন, “রামরাজ্যে সীতাকে অপমানিত হতে হয় এবং অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁকে বনবাসে যেতে বাধ্য হতে হয়। এরপর পাতালে প্রবেশ করার মাধ্যমে আত্মহনন করেন সীতা।” তাঁর এই মন্তব্য ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে বলে দাবি তোলে ত্রিপুরা পুলিশ।

সারদা মামলায় অভিযুক্ত কুণাল
সারদা মামলায় বহুদিন জেল খাটেন কুণাল ঘোষ। এই সময়কালেই আবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে বসেন তিনি। হেফাজতে থাকাকালীনই 2014 সালের 13 ই নভেম্বর ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তৃণমূল নেতা। পরবর্তীতে কুণালের পেটে ঘুমের ওষুধ পাওয়া যায়। এরপর তাঁর আত্মহত্যার চেষ্টার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। গতকাল সেই মামলারই রায়দান দেয় বিচারক মনোজিৎ ভট্টাচার্য।

এই মামলায় কুণালকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। বিচারক বলেন, “2014 সালে 13 ই নভেম্বর কুণাল ঘোষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে আত্মহত্যার চেষ্টা করা অন্যায়। এক্ষেত্রে দুই বছরের জেল পর্যন্ত হয়। তবে আমাদের মনে হয়েছে যে, অবসাদের কারণেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। তাই বর্তমানে তাঁর সামাজিক সম্মানের প্রসঙ্গটি ভেবে দেখেই তাঁকে কোনো রকম শাস্তি দেওয়া হয়নি।”

এরপরে অবশ্য কুণাল ঘোষ জানান, “সেদিন অনেকে বলেছিল যে আমি নাকি নাটক করেছিলাম। কিন্তু আজ প্রমান হলো, আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। কোনো রকম নাটক আমি করিনি।”

Related Articles

Back to top button