টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গবিধানসভা নির্বাচন

‘কুচো সিচো ভুইতো মুক্তা হারে, বীণা পুস্তক রঞ্জিত হস্তে” মঞ্চ থেকে দেবী বন্দনায় মুখ্যমন্ত্রী

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আজ পৈলানে প্রকাশ্য জনসভায় নিজেকে হিন্দু বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর সঙ্গে তিনি আবারও বিষ্ণুমাতার কথা মনে করিয়ে দেন। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে কান ধরে হিন্দুত্ব শেখানোর দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন যে, অর্জুন শ্রী কৃষ্ণের রথ চালাতেন।

আজ পৈলানের জনসভা থেকে আবারও বিজেপিকে বহিরাগত বলে আখ্যা দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ‘ওঁরা সরস্বতী পুজোর মন্ত্রী জানে? আমি সরস্বতী পুজোর মন্ত্র বলছি কান খুলে শুনুন।” এরপর বিদ্যার দেবী সরস্বতী পুজোর মন্ত্র বলতে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে সরস্বতী পুজোর মন্ত্র শেখাতে গিয়ে তিনি নিজেই ভুল মন্ত্র উচ্চারণ করে বসেন।

তিনি মঞ্চ থেকে বলেন, ‘সরস্বতী পুজোর মন্ত্র জানো তোমরা? আচ্ছা করকে কান খুলকে শুননা। হাম কেহ রাহা হু, আমি বলছি।” এরপর মন্ত্রোচ্চারণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জয় জয় দেবী চরাচর সারে। কুচো সিচো ভুইতো মুক্তা হারে, বীণা পুস্তক রঞ্জিত হস্তে। সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যা কমলালোচনে বিশ্বরুপে বিশালাক্ষ্মী সরস্বতৈ নমঃ নমঃ।”

এরপর বিজেপিকে হিন্দুত্বের পাঠ শেখাতে হিন্দুদের একাধিক দেব-দেবীর নাম নেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি আবারও ‘বিষ্ণুমাতা”র নাম উল্লেখ করেন। তিনি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ‘হিন্দু ধর্ম নিয়ে এঁরা বড়বড় কথা বলে। এঁরা মনে করে আমরা হিন্দু না।”

এরপর তিনি সভায় উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এখানে যারা যারা হিন্দু রয়েছেন তাঁরা তাঁরা হাত তুলুন। বিজেপিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তুমি আমাদের হিন্দু ধর্ম শেখাতে এসেছ? আমরা তোমাদের কান ধরে হিন্দু ধর্ম শিখিয়ে দিতে পারি। এরপর তিনি এও দাবি করেন যে, অর্জুন শ্রীকৃষ্ণের রথ চালাতেন।

এটাই প্রথম না যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরস্বতী মন্ত্র উচ্চারণ করতে গিয়ে হোঁচট খেলেন। এর আগে নেতাজি ইন্ডোর স্টিডিয়ামেও একই ভাবে হোঁচট খেয়েছিলেন তিনি। সেই সময় ওনার সেই ভুল মন্ত্র উচ্চারণ করার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল হারে ভাইরাল হয়। এছাড়াও, তিনি একবার বিজেপিকে হিন্দু ধর্ম নিয়ে নিশানা করতে গিয়ে ‘বিষ্ণু মাতা” আর ‘যৌন ধর্ম” এর আবিস্কার করেছিলেন। আজ যদিও কোনও ধর্মের আবিস্কার করেন নি তিনি, তবে বিষ্ণু মাতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আবার।

Related Articles

Back to top button