পশ্চিমবঙ্গবিধানসভা নির্বাচন

‘ফল প্রকাশ ২৪ ঘণ্টাও হয়নি তার মধ্যে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে’, কেন একথা বললেন দিলীপ ঘোষ

বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাজনৈতিক হিংসার শেষ নেই। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথে রাজনৈতিক হিংসা ছড়িয়ে পড়ল  গোটা বাংলা জুড়ে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরই হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক জেলায়।  অধিকাংশ জায়গায় আক্রান্ত বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এনিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, রাজ্যে হিংসা নতুন কিছু নয়। হার-জিতের পর অল্প উত্তেজনা থাকেই। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টাও হয়নি তার মধ্যেই ৬ জন মারা গিয়েছেন। আর শতাধিক বাড়ি, আমার মনে হয় হাজার খানেক বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা থেকে হিংসার খবর আসছে। জিতে অনেকে আনন্দ ধরে রাখতে পারছেন না। উত্তর-দক্ষিণ সব জায়গায় এরকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফল প্রকাশ ২৪ ঘণ্টাও হয়নি তার মধ্যে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এখন আয়ত্বের বাইরে চলে গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে পদক্ষেপ করল কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, হিংসা রুখতে আগামী ১০ দিনের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন থাকবে ১০৫ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী। কিন্তু বাংলায় রাজনৈতিক হিংসা থামাতে সেগুলো যথেষ্ট নয়।

সেই ষাটের দশক থেকে হিংসার রাজনীতি দেখছে বাংলা। নকশাল আন্দোলন এবং তা দমনের জন্য কংগ্রেস সরকারের নিপীড়ন-অত্যাচার দেখেছে বাঙালি।  ১৯৭৭ সালে বামেরা ক্ষমতায় আসার পরে হিংসার এই রাজনীতি আরও সুসংগঠিত হয়েছে। পার্টি-বিরোধী কোনও কিছু শুনব না- এই হল মোদ্দা কথা। গণতন্ত্রের বুকে শেল বিঁধিয়ে মরিচঝাঁপি থেকে সাঁইবাড়ি থেকে ছোট আঙারিয়া থেকে নন্দীগ্রাম-একের পর এক গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ভোটের আগে প্রতিপক্ষের বাড়িতে সাদা থানা পাঠিয়ে কী ভাবে ভয় দেখানো হত, সেই কাহিনী আজও শোনা যায় কান পাতলে। ৩৪ বছরের এহেন বামশাসনের অবসান ঘটিয়ে, অনেক স্বপ্ন দেখিয়ে, ২০১১ সালে বাংলার সালে বাংলার বুকে ক্ষমতায় এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর দল তৃণমূলও কোনও ‘পরিবর্তন’ করেনি। উলটে রাজনৈতিক হিংসা বেড়েই চলেছে।

Back to top button