টাইমলাইনভারতরাজনীতি

কী হবে মহারাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, আরব সাগরের তীরে কে আসীন হবে সিংহাসনে, কী বলছে কূটনীতির অঙ্ক?

বাংলাহান্ট ডেস্ক : টালমাটাল মহারাষ্ট্র। একনাথ শিন্ডের বিদ্রোহে কোণঠাসা অবস্থা এনসিপি-কংগ্রেস-শিবসেনা জোট সরকারের। শিবসেনারই ৪২ জন বিধায়কের সমর্থন হারিয়ে ‘নিজ ভূমেই পরবাসী’ উদ্ধব। ছাড়তে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ‘বর্ষা’। সপরিবারে উদ্ধবের আশ্রয়স্থল এখন পৈতৃক বাড়ি ‘মাতশ্রী’। সেটাও না কোনদিন একনাথ শিবসেনার দলীয় কার্যালয় ঘোষণা করে দেয়। কিন্তু মহারাষ্ট্রে যে রাজনৈতিক বৈরিতা চলছে তা আপাত দৃষ্টিতে একনাথ শিন্ডে এবং উদ্ধব ঠাকরের মধ্যে মনে হলেও এর ভিতরে রয়েছে গভীর কূটনীতি।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ কাদের মধ্যে হয়? চোখ বন্ধ করে যে কেউ উত্তর দেবে কৌরবদের সঙ্গে পাণ্ডবদের। কর্ণ-অর্জুন বা ভীম-দূর্যধনের মারকাটারি লড়াই ছিল এই যুদ্ধের ইউএসপি। কিন্তু আদতে কি তাই। একদমই না। এই যুদ্ধ ছিল মূলত দুই পক্ষের দুই মাস্টারমাইন্ড শ্রীকৃষ্ণ এবং মামা শকুনির মধ্যে। মহারাষ্ট্রের অবস্থাও কিন্তু অনুরূপই। ময়দানে নেমে যুদ্ধটা উদ্ধবের সঙ্গে একনাথের হলেও, এই যুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড কিন্তু অন্যদুজন। একদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অন্যদিকে এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার। গত বিধান সভাতেই ‘আধুনিক চাণক্যের’ তকমা পাওয়া অমিত শাহকে দশ গোল দেন শারদ পাওয়ার। তাই ‘হৃত সম্মান পুনরুদ্ধারে’ একটা শেষ চেষ্টা যে অমিত শাহ করবেন তা বলাই বাহুল্য। দেখে নেওয়া যাক কী ভাবে হতে পারে এই রাজনৈতিক নাটকের যবনিকা পতন?

এক, প্রথমে উদ্ধবকে দলের শীর্ষ পদ থেকে হটিয়ে নিজেকে আসল শিবসেনার নেতা ঘোষণা করতে পারেন শিন্ডে। এবং গ্রহণ করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রীর পদও। শরদ পাওয়ার এবং কংগ্রেসও কিন্তু সেই প্রস্তাবই দিয়েছে একনাথকে।

দুই, একনাথ আবার বিজেপির সমর্থনেও সরকার গড়ার দাবি জানাতে পারে। এখানে প্রশ্ন হল, বিজেপি কি একনাথের নেতৃত্বে সরকার গড়তে রাজি হবে? বিজেপি অবশ্যই চাইবে এই টানাপোড়েনের মাঝে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসিয়ে দিতে।

তিন. উদ্ধব শিবিরের নেতা সঞ্জয় রাউত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন, বিধায়কেরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুম্বই ফিরে এলে বিদ্রোহীদের দাবি মেনে কংগ্রেস ও এনসিপি-র সঙ্গ ছাড়ার দাবি বিবেচনা করবেন উদ্ধব। সম্ভবনা হয়েছে সেটিরও। শিবসেনা জোট ভেঙে পুরনো সঙ্গী বিজেপির সঙ্গেই সরকার গড়তে পারে। সেই আহ্বানে যদিও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনও বিধায়কই সাড়া দেননি। বিদ্রোহীদের আশঙ্কা মুম্বই ফেরা মাত্র তাঁদের গৃহবন্দি করা হবে।

চার. উদ্ধব নিজেও ইস্তফা দিতে পারেন। যদিও দু’দিন আগে থাকে ইস্তফার ইচ্ছার কথা জানিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। পদত্যগের ইচ্ছা যে তাঁর মোটেও নেই তা বলাই যায়। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, উদ্ধব নাকি অনুকূল পরিস্থিতির অপেক্ষায় আছেন।

পাঁচ, উদ্ধব ইস্তফা দিলেও পরের সরকারকে বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয় লাভ করতে হবে। এখানে উদ্ধবের তুরুপের তাস স্পিকার নরহরি সীতারাম জিরওয়াল। এনসিপি-র এই অভিজ্ঞ বিধায়ক আসলে ডেপুটি স্পিকার। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় হলো মহারাষ্ট্রের বিধানসভায় স্পিকার পদ শূন্য। তাই বিধানসভায় আস্থা ভোটের দিন নরহরিই থাকবেন স্পিকারের চেয়ারে। স্পিকার শিবসেনার বিদ্রোহী বিধায়কদের ১৯৮৪-র দলত্যাগ বিরোধী আইনের বলে সমস্যায় ফেলতে পারেন। এই নিয়ে আতঙ্ক যে একনাথ শিবিরেও আছে তা বলাই যায়।

ছয়, সবশেষে থাকছে শরদ পাওয়ারের মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসার সম্ভাবনা। মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে এখনও শরদ পাওয়ারই শেষ কথা। তাই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করার কথা ঘোষণা করলে কারোরই কিছু বলার থাকবে না৷ তবে সেই সম্ভাবনা খুবিই কম বলেই মনে হয়।

সাত, আবার শরদ পাওয়ার নিজের কন্যা সুপ্রীয়া সুলেকে সামনে এগিয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। তবে এই নাটকের যবনিকা পড়তে আরও একটু সময় লাগবে বলেই মনে করছেন সকলে।

Related Articles

Back to top button