টাইমলাইনবিজ্ঞানআন্তর্জাতিক

এলিয়েনরা কেন আসে না পৃথিবীতে! নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর দেওয়া উত্তর জানলে চমকে উঠবেন

বাংলা হান্ট ডেস্ক: মানুষ পৃথিবীতে এলিয়েন সম্পর্কে জানতে এবং তাদের দেখার জন্য যতটা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে, এলিয়েনরাও কি ঠিক সেটাই করে? পাশাপাশি, কেন এলিয়েনরা কখনও পৃথিবীতে আসে না? বহুকাঙ্খিত এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে মানুষের মনে আগ্রহের কোনো শেষ নেই। এমতাবস্থায়, বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নগুলির উদ্বেগজনক উত্তর খুঁজে পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, কিছু বিজ্ঞানী এমনও বলেছেন যে, যদি এলিয়েনরা আমাদের গ্রহে আসে তবে তারা হয় নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যাবে, নয়তো তারা আমাদের সভ্যতাকে ধ্বংস করবে।

কেন এলিয়েনরা পৃথিবীতে আসে না?
এই বহুকাঙ্খিত প্রশ্নটি বিগত কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীদের বিভ্রান্ত করেছে। কিন্তু, বর্তমানে দু’জন বিজ্ঞানী গবেষণার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন যে কেন এলিয়েনরা পৃথিবীতে আসে না? তাঁরা মনে করেছেন, মহাকাশভিত্তিক-সভ্যতাগুলি অনেক বড় আকারের হয় এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে তারা শেষ পর্যন্ত এমন একটি লক্ষ্যে পৌঁছে যায় যেখানে তারা নিঃশেষিত হতে শুরু করে। পাশাপাশি, সেখানে উদ্ভাবন, শক্তির প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটা সময়ে এই ব্যবধানটি এতটাই প্রসারিত হয়ে যায় যে, তা ক্রমশ ভেঙে পড়ে। বিজ্ঞানীরা অবশ্য মনে করেছেন যে, এর একমাত্র বিকল্প পথ হল ভারসাম্য বজায় রাখার পক্ষে “মসৃণ বিবর্তনের” মডেলটিকে প্রত্যাখ্যান করা। যদিও, গবেষকরা বলেছেন, বিভিন্ন গ্রহে পৌঁছানোর জন্য একটি সভ্যতাকে যে মূল্য দিতে হয় তা অনেক বেশি।

রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত তথ্য:
এলিয়েন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের এই প্রতিবেদনটি রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স জার্নালে গত ৪ মে প্রকাশিত হয়েছে, যাকে ফার্মি প্যারাডক্স বলা হয়েছে। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পদার্থবিদ এনরিকো ফার্মি দ্বারা ডিজাইন করা গবেষণাটি মহাবিশ্বের বিশাল সুযোগ এবং বয়সের মধ্যে দ্বন্দ্বের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই প্রতিবেদনে বিজ্ঞানী ফার্মি মনে করেছেন, দৈত্যাকার মহাবিশ্বে উন্নত প্রাণ থাকতে পারে, কিন্তু সেগুলো দেখার বা সেগুলো থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করার প্রযুক্তি আমাদের কাছে নেই। তাহলে প্রশ্ন হল, তারা কোথায়? যদিও, গবেষকদের মতে, নতুনভাবে গবেষণার মাধ্যমে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।

এলিয়েনদের জন্যও কি সম্প্রসারণ সম্ভব নয়?
এই প্রসঙ্গে কার্নেগি ইনস্টিটিউশন ফর সায়েন্সের অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট মাইকেল ওং এবং ক্যালিফোর্নিয়ার স্টুয়ার্ট বার্টলেট বলেছেন যে, “সভ্যতাগুলি হয় বার্নআউট থেকে ভেঙে পড়ে বা হোমিওস্ট্যাসিসকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য নিজেদেরকে পুনর্নির্দেশ করে। অর্থাৎ এটি হল এমন একটি লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া, যেখানে মহাজাগতিক সম্প্রসারণের আর কোনো লক্ষ্য থাকেনা। যদিও, এটা শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। এই প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, গবেষণায় লিখেছে যে, “সভ্যতাগুলি একটা পর্যায়ে ভেঙে পড়ে এবং এলিয়েনদের ক্ষেত্রেও একই রকম কিছু ঘটে থাকতে পারে।”

এলিয়েনদের ধ্বংস কি সম্পন্ন হয়েছে?
বিজ্ঞানী মাইকেল ওং এবং ক্যালিফোর্নিয়ার স্টুয়ার্ট বার্টলেট তাঁদের তত্ত্ব প্রমাণ করতে “সুপারলিনিয়ার” তত্ত্ব ব্যবহার করে বলেছেন যে, ভিনগ্রহের সভ্যতা ভেঙে পড়তে পারে। মূলত, অনুমানের ভিত্তিতে তাঁরা বলেছেন যে, সময়ের সাথে সাথে, উন্নত শহরগুলি তাদের সম্প্রসারণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তবে তাদের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শহরটিও বৃদ্ধি পায়। সেক্ষেত্রে তাদের শক্তির চাহিদাও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা পুরো শহরকে বিপদে ফেলে এবং তা দুর্ঘটনার শিকার হয়। ফলে অতি উন্নত সভ্যতাগুলোও ধ্বংস হয়ে যায়।

কেন উন্নয়ন ধ্বংসের কারণ হয়ে যায়?
এই প্রসঙ্গে বিজ্ঞানীরা এভাবে বুঝিয়েছেন যে, একটি সভ্যতা গড়ে ওঠে এবং তারা ধীরে ধীরে বিকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে এমন মাত্রায় পৌঁছে যায় যে সমস্ত শহর একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে যায়। এমতাবস্থায়, সভ্যতা এমন এক পর্যায়ে “অ্যাসিম্পোটিক বার্নআউট”-এর মুখোমুখি হবে যেখানে সমস্ত উদ্ভাবন হারিয়ে যাবে এবং সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।

এমন সভ্যতা কি খুঁজে পাওয়া যাবে?
এই প্রসঙ্গে বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, যখন একটি সভ্যতা ভেঙে পড়ে, তখন এটি প্রচুর পরিমাণে শক্তি নির্গত করে। গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, এই মৃত সভ্যতাগুলি মানুষের জন্য শনাক্ত করা সবচেয়ে সহজ হতে পারে, কারণ তারা প্রচুর পরিমাণে শক্তি অপচয় করবে।

 

তাই কি পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছেনা?
গবেষকদের মতে, ধ্বংস এড়ানোর জন্য, সভ্যতাগুলি “হোমিওস্ট্যাটিক জাগরণ”-এর মধ্য দিয়ে যেতে পারে। যার অর্থ নির্বিচারে উন্নয়ন বন্ধ করা এবং ন্যায়সঙ্গত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি, পরিবেশের সুরক্ষাকেও অগ্রাধিকার দিতে হবে। গবেষকরা বলেছেন যে, যদিও এই ধরনের সভ্যতাগুলি মহাকাশ অনুসন্ধান সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দিতে পারে না, তবে তারা পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে প্রসারিত হতেও সক্ষম হবে না। তাই বিজ্ঞানীরা মনে করেন, হয় এলিয়েনরা ধ্বংস হয়ে গেছে, সে কারণে তারা পৃথিবীতে আসতে পারবে না অথবা তারা নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে। সে কারণেই হয়তো তারা এখন অন্য কোনো সভ্যতা খোঁজাও বন্ধ করে দিয়েছে।

Related Articles

Back to top button