টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গ

স্বামীকে খুন করে দেহ লোপাট করলো স্ত্রী ,নারকীয় ঘটনা উত্তর ২৪ পরগনাতে

সোমনাথ পাল, গাইঘাটা : আবারও মনুয়া কান্ডের ছায়া। আবারও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক। তার জেরেই প্রেমিকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে নিজের স্বামীকে খুন ও দেহ লোপাট করতে প্রেমিকের বাড়ির ঘরের মেঝেতে স্বামীর দেহ পুঁতে রাখল স্ত্রী। এবার ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগণার গাইঘাটা থানার গোয়ালবাথান এলাকা। তবে শেষ রক্ষা হলনা। ফাঁস হয়ে গেল অবৈধ প্রেম ও নারকীয় খুনের ঘটনা।

খবর পেয়ে বুধবার ঘটনাস্থলে যায় গাইঘাটা থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করে একেবারে গোড়া থেকেই মৃত ব্যক্তির স্ত্রীয়ের ওপর সন্দেহ হয় পুলিশ আধিকারিকদের। এরপর অভিযুক্ত স্ত্রীকে জেরা করতেই পুলিশের সামনে আসে অবৈধ প্রেম ও খুনের ঘটনা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই ব্যক্তির নাম রামকৃষ্ণ সরকার। কুচবিহার জেলার বানেশ্বরপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। বিয়ের পর উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ থানার বাবুপাড়া এলাকায় স্ত্রী স্বপ্না সরকারকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন রামকৃষ্ণ বাবু। ভাড়া বাড়িতে থাকা কালীন গাইঘাটা থানার গোয়াল বাথান এলাকার যুবক সুজিত দাসের সঙ্গে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় স্বপ্নার।

এরপরই প্রেমিকের সাথে ষড়যন্ত্র করে স্বামীকে খুন করতে উদ্যত হয় স্ত্রী স্বপ্না। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ওই গোয়ালবাথান এলাকায় একটি পুকুর পাড়ে রক্ত দেখতে পাই স্থানীয়রা। এরপরই খবর দেওয়া হয় গাইঘাটা থানায়। পুলিশ এবং স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করে বাশ বাগান থেকে জুতো, মাস্ক, টর্চলাইট উদ্ধার করে। এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

এরইমধ্যে বুধবার সকালে গোয়ালবাথান এলাকার প্রেমিক সুজিত দাসের বাড়ির সামনে রক্ত দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। এই ঘটনা জানাতেই পুলিশ ওই যুবকের বাড়িতে তল্লাশির জন্য হাজির হয়। এরই মধ্যে নিজের ঘরে তালা আটকে চম্পট দেয় সুজিত। শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে পুলিশ আধিকারিকরা লক্ষ্য করেন ঘরের খাটের নিচের মাটি খোঁড়া রয়েছে। আর তাতেই সন্দেহ হয় পুলিশের।

শেষ পর্যন্ত খাটের তলার মাটি খুঁড়ে পুলিশ রামকৃষ্ণ সরকারের ক্ষত বিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান রামকৃষ্ণের স্ত্রী সপ্না সরকারের সঙ্গে সুজিতের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। নিজেদের রাস্তা পরিষ্কার করতে সুজিত ও স্বপ্না ষড়যন্ত্র করে রামকৃষ্ণকে খুন করেছে। মৃতদেহ লোপাট করতেই প্রেমিক সুজিতের বাড়ির খাটের নিচে মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখা হয়েছিল মৃতদেহ।

Back to top button