টাইমলাইন

হাতের কাছেই বাংলার এই হিল স্টেশনে দু’দিন কাটালে ভুলে যাবেন দিঘা, পুরী! খরচও খুব সামান্য

বাংলাহান্ট ডেস্ক : বাঙালি বরাবরই ভ্রমন পিপাসু। হাতে ছোট্ট একটা ছুটি পেলেই দীঘা ,পুরী আর পুজোর দিনে বা লম্বা ভ্যাকেশনে দার্জিলিঙে চলে যান নিজেদের মনকে সতেজ করতে। কিন্তু এই দীঘা, পুরী ও দার্জিলিং এর বাইরেও পশ্চিমবঙ্গে এমন অনেক জায়গা আছে যা আমাদের অজানা। জানার যেমন কোন শেষ নেই ঠিক তেমনি ভ্রমণের কোন নির্দিষ্ট পরিসীমা নেই। চেনা ছকের বাইরে গিয়ে যদি আপনি নিজের ট্যুর প্ল্যান করতে পারেন তাহলে আর পাঁচ জনের ভ্রমণের থেকে অনেকটাই আলাদা হবে আপনার ভ্রমণ সফর। আজ আপনাকে এমনই একটি জায়গা সম্বন্ধে বলব যা হয়তো আপনার অজানা। এবারের পূজোর ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরেই আসতে পারেন এখানে।

সিঞ্চল ওয়াইল্ড লাইফ স্যানচুয়ারির অন্তর্গত ছোট গ্রাম চটকপুর। পাহাড়ের কোলে মন মুগ্ধকর এই জায়গাটি অবস্থিত দার্জিলিং থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে। এই চটকপুর আসলে একটি ইকো ভিলেজ। এই গ্রামে সবকিছুই পরিবেশবান্ধব।৭৮৮৭ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ছোট্ট মায়াবি গ্রামটিতে আপনি একদিকে উপভোগ করতে পারবেন কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য অন্যদিকে আপনার মনকে হরণ করবে এখানকার পাহাড়ের মাদকতা।

এছাড়াও এই গ্রামে ওয়াচ্ টাওয়ারের মাধ্যমে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। এই গ্রামটিতে বাস ১৯ টি পরিবারের। চটকপুর গ্রাম পর্যটন কেন্দ্র শুরু হয়েছে মাত্র এক দশক আগে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে পর্যটকদের আনাগোনা। পাহাড় ঘেরা ছোট্ট এই গ্রামটিতে মন মাতানো পরিবেশ হৃদয় হরন করে নেয় পর্যটকদের। যে পর্যটকেরা একবার এই গ্রামটিতে আসেন তারা কখনোই ভুলতে পারেন না চটকপুরকে।

এই গ্রামটির ইতিহাস সম্পর্কে শোনা যায় যে ২১ শতকে দার্জিলিংয়ের এক দপ্তরের অফিসার এখানে পদার্পণ করেন। তখন কৃষি নির্ভর সামান্য কিছু পরিবার বসবাস করত এই গ্রামটিতে। সেই অফিসার গ্রামটি দেখে ধারণা করেন যে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থল হয়ে উঠতে পারে।তার পরামর্শে অনেক গ্রামবাসী এই গ্রামের মধ্যে খোলেন হোমস্টে। এরপর এই গ্রামটি ইকো ভিলেজ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে ২০০৯ সালে।।

এরপর ধীরে ধীরে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে চটকপুর। স্থানীয় এক হোমস্টের মালিক জানাচ্ছেন যে বর্ষার সময় অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস বাদ দিলে বছরের বাকি সময়গুলিতে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। খুব বেশি পরিমাণ লাভ না হলেও বেশ স্বাচ্ছন্দেই দিন কাটছে তাদের। তবে এই গ্রামের বাসিন্দারা সম্পূর্ণভাবে পানের জন্য ঝর্ণার জলের উপর নির্ভরশীল। তাদের সরকারের কাছে অনুরোধ যে পানীয় জলের ব্যবস্থা ও স্থানীয় একটি চিকিৎসা কেন্দ্রের ব্যবস্থা করলে এই গ্রামের সকল অধিবাসী ব্যাপক পরিমাণে উপকৃত হবেন।

Related Articles