টাইমলাইনআন্তর্জাতিক

মহাকাশে ৩২৮ দিন কাটিয়ে নতুন রেকর্ড মহিলা নভচারীর

একটি রেকর্ড ভেঙ্গে অন্য রেকর্ড গড়তে ব্যাস্ত এখন মহিলা নভোচরেরা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কেউ কাটাচ্ছেন ২৮৯ দিন তো কেউ ৩২৮ দিন। গত বছর সবথেকে বেশিদিন মহাকাশে ভেসে থাকার রেকর্ড ;ছিল মার্কিন নভচর পেগি হুইটসনের। এবার তার সেই ২৮৯ দিনের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড গড়লেন আরেক মহিলা নভচর ক্রিস্টিনা কোচ। বছরের সবচেয়ে বেশি সময়টা তিনি কাটিয়ে ফেললেন আইএসএসে – ৩২৮ দিন।

রাশিয়ার পাঠানো সয়ুজ ক্যাপসুলে কাজাখস্তানের মাটি ছুঁয়ে আবেগে কেঁদে ফেললেন তিনি। বললেন, ‘আমি বিস্মিত, আনন্দিত।’ পরিসংখ্যান বলছে, ক্রিস্টিনা মহাশূন্যে যে সময় ধরে ভেসে ছিলেন, তার মধ্যে ৫২৪৮ বার পৃথিবীর নিজেকে প্রদক্ষিণ এবং পৃথিবী থেকে চাঁদে ২৯১ বার যাতায়াত হয়ে যায়। মহাকাশে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্রিস্টিনা বলছেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে যেভাবে আকাশ দেখে এসেছি, তার ভিত্তিতে অনেক স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এখান। আমার পূর্বসূরীদের দেখানো পথেই হেঁটেছি আমি।’

শুধু মহাকাশচারী হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জনই নয়, আইএসএস-এ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজও তাকে করতে হয়েছে। খারাপ হয়ে যাওয়া পাওয়ার কন্ট্রোল ইউনিট তিনি নিজে সারাই করেছেন। তার জন্য অন্তত ৭ ঘণ্টা মহাকাশ স্টেশনের বাইরে কাটাতে হয়েছে। সেসময় অবশ্য তার সঙ্গী ছিলেন জেসিকা মেয়ার। তারাই প্রথম জুটি, যারা কোনও পুরুষ মহাকাশচারী সঙ্গী ছাড়াই সময় কাটিয়েছেন আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে, একেবারে আত্মনির্ভরশীল হয়ে। সেই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ক্রিস্টিনা বলেন, ‘আমরা যখন শুনলাম যে স্টেশনের বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে, তখন ভয় ভয় করছিল। আমি আর জেসিকা হ্যান্ডরেল ধরে বেরতে গিয়ে শুধু পরস্পরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। সেটা আমাদের জীবনে এক বিশেষ সময় ছিল। সেদিনের অভিজ্ঞতা কখনও ভুলব না।’

তবে ক্রিস্টিনা কোচ কিন্তু মার্কিন নভচর স্কট কেলির রেকর্ড এখনো ভাঙতে পারেননি। ২০১৫-১৬ সালে কেলি মহাকাশে কাটিয়েছিলেন ৩৪০ দিন। অর্থাত্‍ পৃথিবীতে ছিলেন মাত্র ১৫ দিন। ক্রিস্টিনা তার চেয়ে মাত্র ১২ দিন পিছিয়ে থাকলেও আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন। সয়ুজে চড়ে কাজাখস্তানের ভূমি স্পর্শ করে তিনি বলছেন, ‘এই মুহূর্তে আমিই সবচেয়ে সুখী মানুষ। সব স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যত্‍ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিতে করতে চাই।’

Back to top button