টাইমলাইনটেক নিউজভারত

এবার ভারতে বিমানের গতিতে হবে রেল সফর! শুরু হল দেশের প্রথম হাইপারলুপ সিস্টেমের কাজ

বাংলা হান্ট ডেস্ক: “দেশীয়” হাইপারলুপ সিস্টেমের বিকাশের জন্য রেলমন্ত্রক এবার IIT মাদ্রাজের সাথে সহযোগিতা করবে। এর পাশাপাশি, IIT-তে হাইপারলুপ টেকনোলজির জন্য সেন্টার অফ এক্সিলেন্স স্থাপনেও সহায়তা করা হবে। এই প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ২০১৭ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু হাইপারলুপ প্রযুক্তিতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। এরপরে, ভারত এবং একটি আমেরিকান সংস্থার মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও তাতে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। যদিও, এখন IIT মাদ্রাজের সঙ্গে এই প্রযুক্তি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

হাইপারলুপ সিস্টেম কি:
মূলত, হাইপারলুপ এমন একটি প্রযুক্তিতে কাজ করে যেখানে কম চাপের টিউবগুলিতে চৌম্বকীয় উত্তোলন (Levitation) ব্যবহার করে বিমানের গতিতে মানুষকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এই প্রসঙ্গে একটি বিবৃতিতে মন্ত্রক জানিয়েছে যে, এই প্রযুক্তি ভারতকে কার্বন নিরপেক্ষ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এমতাবস্থায়, রেলমন্ত্রক এই উদীয়মান ধারণার বিকাশে সহযোগিতা করার জন্য অংশীদার এবং ডোমেন বিশেষজ্ঞদের খুঁজছিল।

“আবিষ্কার হাইপারলুপ” টিমের সাথে পরিচিত হন:
আসলে, রেলমন্ত্রক অবগত ছিল যে, ২০১৭ সালে, IIT মাদ্রাজের “আবিষ্কার হাইপারলুপ” নামে ৭০ জন ছাত্রের একটি দল এটি নিয়ে কাজ করছে। এই প্রসঙ্গে রেলওয়ে জানিয়েছে যে,  দেশীয় হাইপারলুপ সিস্টেমের বিকাশের জন্যে IIT মাদ্রাজের সাথে সহযোগিতা করা হবে এবং সেখানে হাইপারলুপ টেকনোলজির জন্য একটি সেন্টার অফ এক্সেলেন্সও স্থাপন হবে।

এদিকে, IIT-র ছাত্রদের এই দলটি ২০১৯ সালে SpaceX-এর হাইপারলুপ পড প্রতিযোগিতায় শীর্ষ-দশ-এ জায়গা করে নেয়। শুধু তাই নয়, এটাই ছিল একমাত্র এশিয়ান দল যা এই কৃতিত্ব অর্জন করে। শুধু তাই নয়, “ইনোভেশন হাইপারলুপ” দলটি ইউরোপিয় হাইপারলুপ উইক ২০২১-এ “মোস্ট স্কেলেবল ডিজাইন অ্যাওয়ার্ড”-ও জেতে।

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮.৩৪ কোটি টাকা:
IIT মাদ্রাজ কন্ট্যাক্টলেস পড প্রোটোটাইপগুলির বিকাশে একসাথে কাজ করার জন্য এই বছরের মার্চ মাসে রেলমন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করেছিল। পাশাপাশি, IIT ক্যাম্পাসে হাইপারলুপ টেস্ট সুবিধার ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম হাইপারলুপ ভ্যাকুয়াম টিউবের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও, হাইপারলুপ নিয়ে আরও গবেষণার জন্য ভারতীয় রেলওয়ে এটিকে “টেস্ট বেড” হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এমতাবস্থায়, এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৮.৩৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি, IIT মাদ্রাজে হাইপারলুপ টেকনোলজির জন্য একটি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স স্থাপনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য হাইপারলুপের ধারণাটি ইলন মাস্ক এবং SpaceX দ্বারা সর্বাধিক প্রচারিত হয়েছে এবং অন্যান্য সংস্থাগুলিকে এই প্রযুক্তি বিকাশে উৎসাহিতও করেছে। ভার্জিন হাইপারলুপ নামের কোম্পানিটি ২০২০ সালের নভেম্বরে লাস ভেগাসে প্রথম “হিউম্যান ট্রায়াল” করেছিল। যেখানে ১৭২ কিমি/ঘন্টার সর্বোচ্চ গতিতে এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

Related Articles

Back to top button