কাশ্মীরের মধু থেকে অশ্বগন্ধা! G-7 সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের জন্য বিশেষ উপহার মোদীর, রইল তালিকা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে শুধু কূটনৈতিক বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতাদের হাতে তিনি তুলে দিলেন ভারতের (India) ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাচীন জ্ঞানব্যবস্থার প্রতীক কিছু বিশেষ উপহার। রাজস্থানের নাগৌরি অশ্বগন্ধা, মেঘালয়ের লাকাডং হলুদ, জম্মু-কাশ্মীরের রামবান মধু এবং বেনারসি সিল্ক স্টোল— এই চারটি উপহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতি, কৃষিজ সম্পদ এবং হস্তশিল্পকে নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী। কূটনীতির পাশাপাশি ‘সফট পাওয়ার’-এর এই প্রয়োগ আন্তর্জাতিক মহলেও যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে।

G-7 সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের হাতে বিশেষ উপহার হিসেবে মোদী তুলে দিলেন ভারতের (India) ঐতিহ্যপূর্ণ কিছু জিনিস:

ভারতের (India) ঐতিহ্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদীর এই উদ্যোগ নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরে তিনি দেশীয় শিল্প, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের মাধ্যমে ভারতের পরিচয় তুলে ধরেছেন। তবে এবারের উপহারের তালিকা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে, কারণ এতে এমন কিছু সামগ্রী রাখা হয়েছে যা শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উপহার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একধরনের সাংস্কৃতিক বার্তা বহন করে এবং ভারতের স্বকীয়তাকে আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করবে! পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বঙ্গবাসীর জন্য শুভেচ্ছাবার্তা মোদীর

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকায় থাকা নাগৌরি অশ্বগন্ধা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজস্থানের নাগৌর অঞ্চলে উৎপাদিত এই অশ্বগন্ধা জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এবং আয়ুর্বেদে অত্যন্ত মূল্যবান ভেষজ হিসেবে পরিচিত। ‘রসায়ন’ শ্রেণির এই ভেষজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। শুধু ভারতেই নয়, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অশ্বগন্ধা নিয়ে গবেষণা চলছে। একইভাবে উপহারের তালিকায় থাকা মেঘালয়ের লাকাডং হলুদও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। উচ্চ কারকিউমিন সমৃদ্ধ এই হলুদ তার গুণমানের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিচিতি পেয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক গুণের জন্য এটি আয়ুর্বেদে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

জম্মু-কাশ্মীরের চেনাব উপত্যকা থেকে সংগৃহীত রামবান মধুও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকায় জায়গা পেয়েছে। পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে উৎপাদিত এই মধু তার বিশুদ্ধতা এবং পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত। আয়ুর্বেদ এবং প্রাচীন চিকিৎসা ব্যবস্থায় মধুর ব্যবহার বহু শতাব্দী পুরনো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের স্থানীয় ও জিআই-স্বীকৃত পণ্যকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরা হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অর্থনীতিও লাভবান হতে পারে। ফলে এই উপহার শুধু সৌজন্যের নিদর্শন নয়, বরং ভারতের কৃষিজ সম্পদের আন্তর্জাতিক প্রচারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

Modi gave some traditional items of India as a special gift to the world leaders at the G-7 conference

 

আরও পড়ুন: অরুণাচলের অদূরেই বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ তৈরি করছে চিন! জবাবে বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে ভারত

এছাড়া বিশ্বনেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বেনারসি সিল্ক স্টোল। সূক্ষ্ম রেশম, নিখুঁত জরি কাজ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা বয়নশিল্পের জন্য বেনারসি সিল্ক বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই বস্ত্র ভারতের (India) সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং কারুশিল্পের এক উজ্জ্বল প্রতীক। কূটনৈতিক মঞ্চে এই ধরনের উপহার নির্বাচনের মাধ্যমে ভারত যে শুধু অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক শক্তি নয়, বরং হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক— সেই বার্তাই আরও একবার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জি-৭ সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ঐতিহ্যকে এইভাবে উপস্থাপন করা দেশের সাংস্কৃতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।