বাংলা হান্ট ডেস্কঃ চলছে বিধানসভা অধিবেশন। এদিনের অধিবেশনে একের পর এক জবাবে ভাষণ দিতে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই ভাষণে অনুপ্রবেশ, বিএসএফ, রাজনৈতিক হিংসা, বিরোধীদের অভিযোগ থেকে শুরু করে প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে একের পর এক মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিধানসভায় জবাবি ভাষণ
ভাষণের শুরুতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা বাতিলের মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘদিনের লড়াইকে সম্মান জানানো হয়েছে। এরপর কলকাতায় হওয়া ঝড়ের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঝড়ে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, বর্তমানে বিরোধীরা আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুলছে। কিন্তু ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। তাঁর দাবি, সেই সময় বহু বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া হয়েছিলেন এবং রাজনৈতিক হিংসার একাধিক ঘটনা ঘটেছিল। তামান্না নামে এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এখনও সেই পরিবারের বিচার হয়নি।
অনুপ্রবেশ ও বিএসএফ নিয়ে কড়া অবস্থান
অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, কেন্দ্রীয় আইন মেনে অবৈধভাবে দেশে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যেই বহু অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং নিয়ম মেনে তাঁদের ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে। তবে কোনও ভারতীয় নাগরিকের চিন্তার কারণ নেই বলেও তিনি জানান। বিএসএফের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, সীমান্ত রক্ষার কাজে প্রয়োজনীয় জমি আগে কেন দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, অতীতে বিএসএফকে অযথা আক্রমণ করা হয়েছিল।
বিরোধীদের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী
বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, তাঁর ভাষণে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতির চেয়ে কমিউনিস্ট ভাবধারার ছাপ বেশি দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে হামলার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। নাম পরিবর্তনের বিতর্ক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কোনও জায়গার নামকরণ হলে দেশের প্রতি অবদান রাখা ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হবে। এ জন্য একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি। প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ খরচ করা হয়েছিল। সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভাষণের এক পর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা ঘটনার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, অতীতে বহু জায়গায় সভা-মিছিল করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অধিকার ফিরে পেতে হয়েছে। বাঁকুড়ার এক আলুচাষীর আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তুলে কৃষকদের সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এদিন তৃণমূলকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “রয়ে গেল কালীঘাট তৃণমূল, চলে গেল ঋতর তৃণমূল।” তাঁর দাবি, আগের তৃণমূল এবং বর্তমান তৃণমূলের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বাজেটের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় পদক্ষেপ! বাংলায় ২ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে নবান্নে এডিবি
ভাষণের শেষে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধীদের মত প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক বৈঠকেও তাঁদের ডাকা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অতীতের বিভিন্ন ঘটনার জবাব মানুষ ইতিমধ্যেই ভোটের মাধ্যমে দিয়ে দিয়েছেন।













