মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে ৩ লক্ষ টাকায় শুরু করেন ব্যবসা! ৫ কোটির ব্র্যান্ড গড়ে চমকে দিলেন ইশা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মুম্বইয়ের বাসিন্দা ইশা আগরওয়ালের জীবনের সাফল্যের গল্প (Success Story) আজ বহু তরুণ উদ্যোক্তার কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। একসময় তিনি একটি নামী কর্পোরেট সংস্থা জিও ফাইন্যান্সের ট্রেজারি টিমে কর্মরত ছিলেন। চাকরি, স্থায়ী আয় এবং উজ্জ্বল কর্পোরেট ভবিষ্যৎ, সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন সময় তাঁর জীবনকে অন্য পথে নিয়ে যায়। ২০২৩ সালে কন্যাসন্তানের জন্মের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি নেন ইশা। এরপর ২০২৪ সালে আবার চাকরিতে ফিরলেও, সেই বছরের নভেম্বরে বাবার আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তিনি মায়ের সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে বুঝিয়ে দেয়, অন্যের জন্য কাজ করার বদলে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার মধ্যে আলাদা তৃপ্তি রয়েছে। এরপরই কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ইশা আগরওয়ালের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

নতুন মা হিসেবে ইশা নিজের মেয়ের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ হেয়ার ক্লিপ, কানের দুল এবং অন্যান্য গয়না খুঁজতে গিয়ে বড় সমস্যার মুখে পড়েন। ভারতীয় বাজারে অধিকাংশ শিশুর গয়না ছিল নিম্নমানের আমদানি করা পণ্য, যা খুব সহজেই ভেঙে যেত অথবা শিশুদের ত্বকে অ্যালার্জির কারণ হতো। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মেয়ের কান ফোঁড়ানোর পর তিনি আরও একটি বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হন। দ্রুত বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য ১৪ হাজার টাকা দিয়ে সোনার কানের দুল কেনা অনেক পরিবারের কাছেই বাস্তবসম্মত নয়। তখনই তিনি উপলব্ধি করেন, নিরাপদ, টেকসই এবং সাশ্রয়ী মূল্যের শিশুদের গয়নার বাজারে বড় শূন্যতা রয়েছে। সেই সুযোগকেই কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন ইশা। নিজের সঞ্চয় থেকে মাত্র ৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি শুরু করেন ‘টুইস্টি লকস’ নামে স্টার্টআপ। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্র্যান্ডটি ফার্স্টক্রাই ও মিন্ট্রার মতো জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে জায়গা করে নেয় (Success Story)।

আরও পড়ুন:পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডেও যুক্ত ছিল ২৬/১১-র মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! NIA-র চার্জশিটে লস্কর প্রধানের নাম

শুরুর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না। বাড়ির একটি ছোট অতিরিক্ত ঘর থেকেই শুরু হয়েছিল ব্যবসার পথচলা। ইশার সঙ্গে ছিলেন তাঁর শাশুড়ি আলপনা আগরওয়াল এবং মাত্র একজন কারিগর। শুরু থেকেই তিনি গুণগত মানের সঙ্গে কোনও আপস করেননি। শিশুদের কোমল ত্বকের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয় সম্পূর্ণ হাইপোঅ্যালার্জেনিক গয়না, যাতে কোনও র‍্যাশ বা ত্বকের সমস্যা না হয়। কানের দুলের পিছনের অংশ এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে শিশু পাশ ফিরে ঘুমোলেও কানে ব্যথা না লাগে। প্রতিটি গয়নায় রয়েছে ১৮ ক্যারেট সোনার প্রলেপ, স্টেইনলেস স্টিলের বেস এবং জলরোধী ফিনিশিং। এক সাক্ষাৎকারে ইশা জানিয়েছেন, বাজারে কোনও নতুন ডিজাইন আনার আগে তিনি নিজেই সেটি তাঁর মেয়েকে পরিয়ে পরীক্ষা করেন। তাঁর কথায়, “যে জিনিস আমার নিজের মেয়ের জন্য নিরাপদ বলে মনে হবে না, তা কখনও কোনও গ্রাহকের কাছে বিক্রি করব না।” এই নীতিই ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ‘টুইস্টি লকস’ শিশুদের গয়নার বাজারে একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি ২০ হাজারেরও বেশি গ্রাহককে পরিষেবা দিয়েছে এবং ২ কোটিরও বেশি টাকার বিক্রি করেছে। বর্তমানে ব্র্যান্ডটির মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে শিশুদের গয়না থেকে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সংস্থার সম্ভাব্য টার্নওভার ৫ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই দ্রুত সাফল্যের পেছনে পরিবার, বিশেষ করে শাশুড়ির অবদান সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন ইশা। কঠিন সময় থেকে শুরু করে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি পাশে ছিলেন বলেই আজ এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা।

Success Story of Isha Agarwal will amaze you.

আরও পড়ুন: পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডেও যুক্ত ছিল ২৬/১১-র মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! NIA-র চার্জশিটে লস্কর প্রধানের নাম

দেশীয় বাজারে সাফল্যের পর (Success Story) এবার আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও পা রাখতে চলেছে ‘টুইস্টি লকস’। আগামী দুই মাসের মধ্যেই সংস্থাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের  বাজারে প্রবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুধু ইউএই নয়, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আরও পাঁচটি দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যও স্থির করেছে সংস্থা। ইশা আগরওয়ালের এই যাত্রা প্রমাণ করে, একটি সাধারণ সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে পারলে এবং গুণগত মানের সঙ্গে আপস না করলে অল্প পুঁজিতেও বড় ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব। কর্পোরেট চাকরি থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার তাঁর এই গল্প আজ বহু তরুণ-তরুণীকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।