দেশজুড়ে রেলের ১,০০০ হেক্টরেরও বেশি জমি হয়ে রয়েছে দখল! RTI-র মাধ্যমে সামনে এল পরিসংখ্যান

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: রেলের (Indian Railways) জমি দখলমুক্ত করার অভিযান সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে  নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কিন্তু এই ইস্যু শুধু একটি রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোটা দেশের ক্ষেত্রেই এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তথ্যের অধিকার আইন (RTI)-এর আওতায় প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য সেই উদ্বেগই আরও স্পষ্ট করেছে। রেল বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের শেষে দেশে ভারতীয় রেলের ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি এখনও বেআইনি দখলে রয়েছে। অর্থাৎ বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তি বছরের পর বছর অন্যের দখলে থাকলেও তা সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলের জমি দেশের পরিকাঠামো উন্নয়ন, নতুন রেললাইন, স্টেশন সম্প্রসারণ এবং মালবাহী করিডর তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। ফলে এই জমি উদ্ধার করা এখন প্রশাসনের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

ভারতীয় রেলের (Indian Railways) কত পরিমাণ জমি এখনও বেআইনি দখলে রয়েছে তার তথ্য প্রকাশ করল RTI

সম্প্রতি একটি আরটিআই আবেদনের মাধ্যমে রেলের (Indian Railways) জমি দখল সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র পক্ষ থেকে করা ওই আবেদনে গত ২৫ বছরের তথ্য চাওয়া হলেও রেল বোর্ড শেষ পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সেই তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি বেআইনিভাবে দখল হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, সংসদে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে মাত্র ৯৮.০২ হেক্টর জমি অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ যতটা জমি উদ্ধার হয়েছে, তার তুলনায় অনেক বেশি জমি এখনও দখলমুক্ত করা যায়নি। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, জমি উদ্ধারের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে এবং বাস্তব পরিস্থিতি প্রশাসনের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের।

আরও পড়ুন: বোতল প্রতি দাম ১৫ টাকা, ‘রেল নীর’ বেচে কত আয় হয় IRCTC-র

গত পাঁচ বছরের হিসেব খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, দখলদারির প্রবণতা কমার বদলে উল্টে বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে রেলের ৮১০.৩১ হেক্টর জমি অন্যের দখলে ছিল। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১-২২ সালে তা কিছুটা কমে ৭৮২.৮১ হেক্টরে নেমে এলেও সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২২-২৩ সালে আবার দখল হওয়া জমির পরিমাণ ৮০০ হেক্টর ছাড়িয়ে যায়। এরপর ২০২৩-২৪ সালে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২৬৮ হেক্টর নতুন জমি বেআইনি দখলে চলে যায় এবং মোট দখল হওয়া জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১,০৭৮.৫৫ হেক্টর। ২০২৪-২৫ সালে সামান্য হ্রাস পেলেও এখনও ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করা যায়নি। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে রেলের জমি দখলের পরিমাণ প্রায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতীয় রেলের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৪.৯৯ লক্ষ হেক্টর। সেই হিসেবে দখল হওয়া জমির পরিমাণ মোট সম্পত্তির মাত্র ০.২১ শতাংশ। সংখ্যার বিচারে শতাংশটি খুব বেশি না মনে হলেও, বাস্তবে এর পরিমাণ বিশাল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গুজরাতের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের আয়তন প্রায় ২৫.৫ হেক্টর। সেই হিসাবে বর্তমানে যে পরিমাণ রেলের জমি দখল হয়ে রয়েছে, সেখানে প্রায় ৪২টি নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম তৈরি করা সম্ভব। ফলে জমির প্রকৃত মূল্য এবং সম্ভাব্য ব্যবহার বিবেচনা করলে বিষয়টির গুরুত্ব অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই জমিগুলির একটি বড় অংশ ভবিষ্যতের রেল প্রকল্প, মালবাহী করিডর, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারত।

RTI revealed the extent of Indian Railways land that remains under illegal occupation.

আরও পড়ুন: বকেয়া DA-র বিজ্ঞপ্তি দিলেও মেলেনি টাকা! বিস্ফোরক অভিযোগে সরব সরকারি কর্মীদের নেতা

রেল (Indian Railways) কর্তৃপক্ষের মতে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা সহজ কাজ নয়। বহু ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা, দীর্ঘদিনের বসবাস, আদালতের নির্দেশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার অভাবে উচ্ছেদ অভিযান দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকে। তবুও রেল জমি পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন জোনে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে এবং রাজ্য প্রশাসনের সহায়তায় দখলমুক্ত করার কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে রেলের সম্প্রসারণ এবং দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে অবৈধ দখল রোধের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জমির দ্রুত ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই জমি রক্ষায় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, নিয়মিত সমীক্ষা এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের উপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।