বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতা শহরের রাস্তাঘাটে হামেশাই চোখে পড়ে আবর্জনার স্তুপ। অভিযোগ ওঠে, অনেক জায়গায় নাকি নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে না। যার ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় শহুরে এলাকার নাগরিকদের। ইতিপূর্বে এমন অভিযোগ এসেছে একাধিকবার। অন্যদিকে কঠিন বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার যে আধুনিক ব্যবস্থা, সেটাও কার্যকর করতে পারেনি অধিকাংশ পৌরসভা। এই পরিস্থিতিতে নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য জুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার লক্ষ্যে, কেন্দ্রীয়ভাবে জঞ্জাল সাফাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বান্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
জঞ্জাল সাফাইয়ের বিরাট নির্দেশ দিলেন মমতা (Mamata Banerjee)
অন্যদিকে বছর ঘুরলেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) এই নির্দেশকে অনেকে আবার রাজনৈতিকভাবেও ব্যাখ্যা করছেন। গত বছরের লোকসভা নির্বাচনের পর দেখা গিয়েছে শহর সংলগ্ন এলাকার অধিকাংশ ভোট গিয়েছিল বিজেপির ঝুলিতে। তাই এবার আগে থেকেই সাবধানী মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সম্ভবত সেই কারণেই আসন্ন নির্বাচনে শহুরে ভোটারদের মন পেতে এবার একেবারে একবছর আগে থেকেই অভিনব পদক্ষেপ নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। তাই পুরসভা এলাকার আবর্জনা এবং জঞ্জাল সাফাইয়ের জন্য সরাসরি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরকেই দায়িত্ব দিচ্ছেন তিনি।
আরও পড়ুন: মেটাল ডিটেক্টর থাকতেও মিলল মোবাইল? উচ্চ-মাধ্যমিকের প্রথম দিনেই ধরা পড়ল চুরি
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মিলতেই পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে পুর এবং নগরোন্নয়ন দফতর। জানা যাচ্ছে এবার থেকে রাজ্যের পুর দফতর সরাসরি এই কাজের দায়িত্ব নেবে। প্রতিটি পুরসভা এই কাজ এতদিন স্বতন্ত্রভাবে পরিচালনা করত। কিন্তু ক্রমাগত সেই ব্যবস্থায় অসঙ্গতি এবং শিথিলতার অভিযোগ উঠছে। তাই এবার কেন্দ্রীয় ভাবে পরিকল্পনা করে জঞ্জাল সাফাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরফলে শহরের সৌন্দর্যায়ন বৃদ্ধির সাথেই গতি বাড়বে কঠিন বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের প্রক্রিয়াতেও।
নবান্ন সূত্রে খবর, এই বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি রাজ্যের এক প্রাক্তন মন্ত্রী বারাসত পুরসভা এলাকায় আবর্জনা জমে থাকার অভিযোগ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। বারাসত ছাড়াও, কলকাতা-সহ একাধিক পুরসভা এলাকাতেও নিয়মিত জঞ্জাল সাফাই না হওয়ার অভিযোগ উঠতে শুরু করে। তারপরেই খোঁজখবর নিতে শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তারপরেই তিনি নির্দেশ দিলেন, এবার থেকে রাজ্য সরকারই কেন্দ্রীয়ভাবে এই কাজ পরিচালনা করবে।