টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গ

Ration Card: ১৮০০ কোটি টাকা ক্ষতির জের, ৮৬ লক্ষ রেশন কার্ড বাতিল করল রাজ্য! আপনার নাম নেই তো?

বাংলা হান্ট ডেস্ক: রেশনের (Ration) মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য পান সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি অভাবী মানুষদের কাছেও খাদ্যসংস্থানের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হল রেশনজাত দ্রব্য। মূলত, কেন্দ্র এবং রাজ্যের সরকারের তরফে রেশনের সুবিধা পান সাধারণ মানুষ। এমতাবস্থায়, রাজ্যের রেশন গ্রাহকদের জন্য এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এল। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ৬২ লক্ষ রেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে রাজ্য সরকারের (Government of West Bengal) তরফে।

এই প্রসঙ্গে বিধানসভায় এমনই তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। তিনি জানান, ভুয়ো রেশন কার্ডের ফলে রাজ্য সরকারের মোট ক্ষতির পরিমান পৌঁছে গিয়েছে বছরে প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকায়। এমতাবস্থায়, ৬২ লক্ষ ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিল করার ফলে অনেকটাই সাশ্রয় হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি মাসে বর্তমানে ৯০ কোটি টাকা করে সাশ্রয় হচ্ছে রাজ্য সরকারের।

পাশাপাশি মন্ত্রী আরও জানান, সমস্ত ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিল করা সম্ভব হলে প্রতি মাসে রাজ্য সরকারের বেঁচে যাবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। এদিকে, এই ভুয়ো রেশন কার্ডগুলিকেই হাতিয়ার করে ভর্তুকিযুক্ত খাদ্যশস্য বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমতাবস্থায়, এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, দুই ২৪ পরগনার পাশাপাশি মালদহ ও মুর্শিদাবাদে সবচেয়ে বেশি ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, যে সকল রেশন কার্ডগুলিকে বাতিল করা হচ্ছে সেগুলিকে খাদ্য দফতরের ওয়েবসাইটে লাল রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমতাবস্থায়, এরপর থেকে আর ওই লাল রং চিহ্নিত অর্থাৎ বাতিল কার্ড দেখিয়ে রেশন দোকান থেকে খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করা যাবে না।

তবে, ভুয়ো কার্ড বাতিলের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে নতুন কার্ডও তৈরি হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ লক্ষ নতুন রেশন কার্ড তৈরি হয়েছে। যদিও, ভুয়ো রেশন কার্ডের ব্যাপারে ক্রমশ কঠোর হচ্ছে সরকার। এমতাবস্থায়, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি ভুয়ো রেশন কার্ড রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ জানিয়েছেন, “বর্তমানে ধারাবাহিক ভাবে ভুয়ো রেশন কার্ড চিহ্নিত করে তা বাতিল করা হবে। এই কার্ডগুলিকে বাতিল করলে দপ্তরের প্রচুর সাশ্রয় হবে। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।”

Related Articles