‘দুর্নীতির মাথা না ধরতে পারলে কী করতে হবে আমি জানি’, বিচারপতি গাঙ্গুলির মন্তব্য ঘিরে জল্পনা

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) মামলার তদন্তের গতি নিয়ে ফের আদালতের রোষের মুখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা। ভরা এজলাসে এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Ganguly) সিবিআই, ইডির (ED-CBI) উদ্দেশে মন্তব্য করে বলেন, “কোথায় গেল নিয়োগ দুর্নীতির এত টাকা? এরা তো দালাল! আসল টাকা কোথায় পৌঁছল? সেটাই তো খুঁজে পেতে হবে। এত দিন ধরে কী করছেন? এখনও অবধি কোমরের উপরে পৌঁছতে পারেননি।”

শুধু তাই নয় এরপর বিচারপতি আরও বলেন, “আপনারা যদি এবার মাথায় না পৌঁছতে পারেন, আমি জানি কী করতে হবে। দীর্ঘ দিন হয়েছে। সময় অপচয় ছাড়া কিছু হচ্ছে না।” প্রসঙ্গত, শিক্ষক কেলেঙ্কারি কাণ্ডে ধৃত হুগলীর প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ (Kuntal Ghosh) গতকাল ইডি, সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। যা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি।

   

জেলবন্দি কুন্তলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা তার মুখ দিয়ে জোর করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নাম বলানোর চেষ্টা করছে। এই নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) দ্বারস্থ হয়েছেন এই বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা। হেস্টিংস থানায় অভিযোগ কুন্তল। অন্যদিকে, নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কুন্তল ঘোষের চিঠি সংক্রান্ত মামলায় প্রয়োজনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং ইডি। এমনটাই আজ নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

justice ganguly

পাশাপাশি বিচারপতির নির্দেশ, আদালতের অনুমতি ছাড়া রাজ্যের কোনও থানায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে ইডি ও সিবিআই এর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা যাবে না। অভিযুক্ত কুন্তলের চিঠির প্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ ছাড়া হেস্টিংস থানাও এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে বলেও জানান বিচারপতি। এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন খানিক স্বস্তিতে ইডি, সিবিআই, অন্যদিকে তদন্তের ধীর গতি নিয়ে বিচারপতি ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ওপর।

এদিন ইডির আইনজীবী আদালতে জানান, গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে কুন্তলের কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। তার অভিযোগের সূত্রপাত হয়েছিল গত ৩০ মার্চ। ওই দিনটি নজরে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে ইডির আইনজীবী জানায়। প্রসঙ্গত, ৩১ মার্চ কুন্তল ঘোষ নিম্ন আদালতে ইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে চিঠি পাঠান যা ১ এপ্রিল হেস্টিংস থানায় গিয়ে পৌঁছয়।

অন্যদিকে, মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের আদালতে সওয়াল করেন, কুন্তল তরফে যে চিঠি লেখা হয়েছে তার বিভিন্ন অংশ দেখে তিনি নিশ্চিত এর নেপথ্যে ‘বাইরের কোনও হাত’ রয়েছে। অভিষেকের সভার পরেই এই চিঠির কাহানী শুরু হয়েছে বলেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ শহিদ মিনারের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সারদা মামলায় হেফাজতে থাকার সময় মদন মিত্র এবং কুণাল ঘোষকে তার নাম নিতে বলেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এর এর পরে জেলবন্দি কুন্তলের মুখেও উঠে এলো একই কথা। একই অভিযোগ করে কুন্তল বলেন, তার নাম নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে ইডি, সিবিআই। এই নিয়েই কেন্দ্রীয় এজেন্সি চাইলে চিঠি নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করতে পারবে বলেই মন্তব্য করেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

justice

বিচারপতি বলেন কুন্তলের চিঠির প্রেক্ষিতে ইডি আবেদন করেছে, তাই তাদের রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। সিবিআই আবেদন না করলে রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব না। নিম্ন আদালতে সিবিআইয়ের আইনজীবীর ভূমিকা প্রশ্ন তুলে প্রয়োজনে আইনজীবী পরিবর্তন করার পরামর্শ দেন বিচারপতি।

এর প্রেক্ষিতে সিবিআই এর আইনজীবী আদালতে বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেব। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে নানা মন্তব্য করছেন। ফলে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। হেফাজতে থাকাকালীন এইভাবে মন্তব্য ঠিক নয়।’ এরপরই বিচারপতি বলেন, ইডি-সিবিআই মাথায় পৌঁছতে না পারলে কী করতে হবে সেটা জানা রয়েছে।

Sharmi Dhar
Sharmi Dhar

শর্মি ধর, বাংলা হান্ট এর রাজনৈতিক কনটেন্ট রাইটার। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। বিগত ৩ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ।

সম্পর্কিত খবর