টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

হাতে ঘাসফুল তুলে নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে রাজ্য কংগ্রেসও, জোট নিয়ে উভয় সঙ্কটে বামেরা

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধানসভা ভোটে কার্যত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কংগ্রেস (Congress)-সিপিআইএম (CPIM) এবং আই এস এফের মহাজোট। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (ISF) একজন প্রতিনিধি বিধানসভায় বিধায়ক আসন অলংকৃত করার সুযোগ পেলেও রাজ্যে বাম এবং কংগ্রেস কার্যত শূন্য। এদিকে বিজেপি (BJP) বিরোধী শক্তি হিসেবে শুধুমাত্র রাজ্যে নয় সারা দেশ জুড়ে বড় জায়গা দখল করছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। পেগাসাস কান্ড হোক বা পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি প্রতিটা ইস্যু নিয়েই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব তারা।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, যেভাবে বিজেপি বিরোধিতায় সরব হয়ে উঠছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাতে ধীরে ধীরে তাদের সঙ্গে নৈকট্য বানানোর চেষ্টা করছে প্রদেশ কংগ্রেসও। একদিকে যেমন মমতার একুশে জুলাইয়ের ভার্চুয়াল ভাষণ শুনতে দিল্লিতে উপস্থিত হয়েছিলেন অন্যতম বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা দ্বিগবিজয় সিং (Digvijay Singh), তেমনই আবার জোট মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন আরজেডি, অকালি দল, শিবসেনা, আম আদমি পার্টির প্রতিনিধিরাও। যার জেরে রাজ্য কংগ্রেসও তৃণমূলের প্রতি নৈকট্য বাড়াচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

এমনকি শুক্রবার পেগাসাস কাণ্ড নিয়ে সরব হতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভাপতি দীপ্তিমান ঘোষের মতো নেতা এমন মন্তব্যও করেছেন, গান্ধীবাদী নেতা হিসেবে মমতা ব্যানার্জির (Mamata Banerjee) দিকে হাত বাড়িয়ে রেখেছেন তারা। যার জেরে সিপিআইএম এখন উভয় সংকটে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শুরু থেকেই বিজেপির মত তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধও সরব সিপিআইএম এবং তা করতে গিয়ে একুশের বিধানসভায় প্রধান শত্রু নির্বাচনে কিছুটা যে ভুল বার্তা পৌঁছেছে ভোটারদের কাছে তাও কার্যত মেনে নিয়েছেন তারা। এখন আগামী দিনের কংগ্রেস যদি হাত ছাড়ে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্ল্যান-বি ভেবে রাখতে হবে বাম নেতৃত্বকে।

আগামী লোকসভায় একদিকে যখন মহাজোট তৈরি করার স্বপ্ন দেখছেন তৃণমূল নেত্রী, কিছুটা ব্রাত্য থেকে গিয়েছে রাজ্যের বাম দলগুলি। যদিও সূর্যকান্ত মিশ্রের (Suryakanta Mishra) মতো নেতারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রে মমতা যদি বিজেপি বিরোধিতায় তাদের সাহায্য চান সঙ্গ দেবেন তারা। কিন্তু রাজ্যে তৃণমূল বিরোধিতা একই ভাবে চলবে।

এদিন একই বক্তব্য রাখেন সুজন চক্রবর্তীও (Sujan Chakraborty)। তিনি বলেন, ‘‘দেশে বিজেপিকে রোখার লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে কোনও শিথিলতা চাই না। কিন্তু রাজ্যে তৃণমূলের বিরোধিতা থেমে যেতে পারে না। আগ বাড়িয়ে আমরা কোনও জোট ভাঙব না। তবে তেমন কিছু ঘটলে আমাদের ‘প্ল্যান বি’ ভেবে রাখতেই হবে।’’ অর্থাৎ চব্বিশের লোকসভাতেও ফের একবার তৈরি হতে পারে ঊনিশের পরিস্থিতি। রাজ্যে ২০১৬ সালে জোটবদ্ধ হলেও ২০১৯ সালে লোকসভায় সেই জোট ভেঙে যায়। পরিস্থিতি এবারও তেমনটাই হতে পারে বলে সন্দেহ রয়েছে অনেকেরই।

 

Related Articles

Back to top button