মোবাইল থেকে থাকতেন দূরে! একই পরিবারে বাবা-দাদার পর ভাইবোন হলেন জজ, এভাবে করলেন স্বপ্নপূরণ

বাংলা হান্ট ডেস্ক: আমাদের দেশে (India) রাখিবন্ধন একটি অন্যতম জনপ্রিয় এবং পবিত্র উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, এবার এই দিনটিতেই নিজেদের পরিবারকে এক অনন্য উপহার দিলেন দুই ভাইবোন। যেটি জানার পর রীতিমতো অবাক হয়ে যাবেন সকলেই। পাশাপাশি, তাঁরা তৈরি করেছেন এক বিরল নজিরও। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ওই বিশেষ দিনটিতে একইসাথে PCS-J পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাঁরা জজ (Judge) হিসেবে সাফল্য অর্জন করেছেন।

ভাইবোন একসাথে PCS-J পাশ করেছেন: সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তাঁরা দু’জনেই তাঁদের প্রথম প্রচেষ্টাতে এই সাফল্য পেয়েছেন। এদিকে, ওই দুই ভাইবোনের বাবা এবং দাদাও পেশাগতভাবে জজ। তাঁদের বাবা গত মাসেই অবসর গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ভাদোই জেলায় সিভিল জজ পদে কর্মরত রয়েছেন তাঁদের দাদা। এমতাবস্থায়, এই নজিরবিহীন কৃতিত্ব যাঁরা অর্জন করেছেন তাঁরা হলেন আগ্রার খান্ডৌলি শহরের গড়ি অর্জুনের বাসিন্দা রাজ বাহাদুর মৌর্যর পুত্র সুধাংশু সিং এবং তাঁর মেয়ে শৈলজা।

   

In the same family, siblings become judges

জানা গিয়েছে, গত বুধবার যখন তাঁদের পরিবারে রাখিবন্ধন উৎসব পালন করা হচ্ছিল, তখন PCS-J পরীক্ষার ফলাফল সামনে আসে। সেখানেই দেখা যায় যে, সুধাংশু ২৭৬ তম এবং বোন শৈলজা রাজ্যে ৫১ তম স্থান অর্জন করেছেন। পাশাপাশি, তাঁদের দু’জনের এহেন সাফল্য পরিবারের সদস্যদেরও গর্বিত করেছে।

আরও পড়ুন: জুতো সারাই করতেন বাবা! পেটের দায়ে চালিয়েছেন রিকশাও, আজ সেই ব্যক্তি গড়েছেন ১০০ কোটির সাম্রাজ্য

দাদা এবং বাবা পড়াশোনায় সাহায্য করতেন: এই প্রসঙ্গে শৈলজা ও সুধাংশু জানিয়েছেন যে, প্রতিদিনের কাজের পর যেটুকু সময় বাকি থাকত সেই সময়টা দু’জনেই একসঙ্গে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেন। তাঁরা কোনো প্রশ্নে আটকে গেলে একে অপরের সাহায্য নিতেন এবং প্রশ্নগুলি বেশি কঠিন হলে বাবা এবং দাদার কাছ থেকে সাহায্য চাইতেন। পাশাপাশি, পড়াশোনার বিষয়ে মায়ের কাছ থেকেও সাহায্য পেয়েছেন তাঁরা। আর এইভাবেই পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রথম প্রচেষ্টায় এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ওই ভাইবোন।

আরও পড়ুন: অর্থের অভাবে খিদের তাড়নায় খেতেন মহুয়া ফুল! আজ আমেরিকার বিখ্যাত বিজ্ঞানী সেই আদিবাসী ছেলে

করেছেন ত্যাগ স্বীকার: এদিকে, পড়াশোনার বিষয়ে ত্যাগ স্বীকারের প্রসঙ্গে ভাইবোন জানান, তাঁরা দু’জনেই গত ৭ বছর ধরে খেলাধূলা থেকে দূরে রয়েছেন। পাশাপাশি, তাঁরা শুধুমাত্র প্রস্তুতির স্বার্থে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতেন। তাঁদের একাধিক বন্ধু থাকলেও তাঁরা কোনো দিকে সময় নষ্ট না করে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ দিয়েছিলেন। প্রস্তুতির টিপস দিতে গিয়ে দু’জনেই জানান, যেকোনো পরীক্ষায় পাশ করতে হলে আগে একটা লক্ষ্য ঠিক করে তারপর পড়াশোনা শুরু করতে হবে। তবেই সফলতা পাওয়া যাবে।

Sayak Panda
Sayak Panda

সায়ক পন্ডা, মেদিনীপুর কলেজ (অটোনমাস) থেকে মাস কমিউনিকেশন এবং সাংবাদিকতার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স করার পর শুরু নিয়মিত লেখালেখি। ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর