টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গ

রেণুকে কাজ দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার খরচ ও কৃত্রিম অঙ্গ প্রদান, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সম্প্রতি, সরকারি চাকরি পাওয়ার কারণে রেণু খাতুনের ডান হাত কেটে নেয় তার স্বামী সরিফুল। তবে এক হাত চলে গেলেও তাতে দমতে নারাজ রেণু, আর এবার তাঁর সেই নির্ভীক সাহসিকতার পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। উপযুক্ত কাজ এবং চিকিৎসার খরচ দেওয়ার পাশাপাশি রেণুর জন্য কৃত্রিম অঙ্গের ব্যবস্থা পর্যন্ত প্রদান করতে চলেছে রাজ্য সরকার। এদিন এ ব্যাপারে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর নিজের এলাকায় খুন হয়েছেন এক দম্পতি পরিবার, যা নিয়ে উত্তাল হয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। কিভাবে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের এলাকাতেই দুষ্কৃতীরা এসে তাদের খুন করে দিয়ে গেল, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি। আর এসকল বিতর্ক মাঝেই এদিন মৃতের বাড়িতে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়ে রেণু খাতুনের প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আমাদের রাজ্যের মহিলা কমিশনের প্রধান লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ইতিমধ্যে রেণুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। নার্সিং পরীক্ষার যে তালিকা তৈরি করা হয়েছিল, তার 22 নম্বরে ওর নাম ছিল বলে শুনেছি। ওর ডান হাত খোয়া গিয়েছে, তবে বর্তমানে ও যে কাজটা করতে সক্ষম হবে আমরা সেটাই দেব।” এছাড়াও তিনি বলেন, “আমার কাছে খবর এসেছে যে, মহিলার চিকিৎসার পেছনে 57 হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথীতে কাজ হয়নি। এ ব্যাপারটি নিয়ে আমি মুখ্যসচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়াও কৃত্রিম হাতের ব্যবস্থা করে দেওয়া যায় কি না, সে ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে চলেছি।”

প্রসঙ্গত, গত শনিবার সরকারি চাকরি পাওয়ার কারণে স্ত্রী রেণু খাতুনের এক হাত কেটে নেয় তার নিজের স্বামী। এরপরই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মহিলাকে এবং তার স্বামী ও শশুরবাড়ির লোকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে এই প্রসঙ্গে মহিলা জানান, “গত শনিবার আমি বাপের বাড়িতে ছিলাম। এরপরে আমার স্বামী এসে আমাকে বাড়ি নিয়ে যায় এবং বাড়ি এসে আমি যখন ঘুমিয়ে পড়ি, তার পরেই ঘটে বিপত্তি! আমার মুখে আচমকা বালিশ চাপা দিয়ে মারার চেষ্টা করে ও। আর সেই সময় অচেনা দুই ব্যক্তি এসে আমার ওপর আক্রমণ করে।”

পুলিশ সূত্রে খবর, স্ত্রী সরকারি চাকরি পাওয়ার পর যাতে তাকে ছেড়ে না যায়, সেই কারণেই মহিলার ওপর হামলা চালায় অভিযুক্ত স্বামী। এক্ষেত্রে প্রাণে মেরে ফেলার বদলে তাকে জখম করাই উদ্দেশ্য ছিল ওই ব্যক্তির। তবে বর্তমানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related Articles

Back to top button