টাইমলাইনফুটবলখেলা

কট্টর মোহনবাগান সমর্থক হয়েও পেশার খাতিরে ইস্টবেঙ্গলে সপ্তক ঘোষ, মিশ্র প্রতিক্রিয়া লাল-হলুদ ভক্তদের মধ্যে

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্ক: কলকাতা ডার্বি বাঙালি ফুটবল প্রেমীদের কাছে সবচেয়ে বড় আবেগের বিষয়। রাগ, ঘৃণা, ভালোবাসা সমস্ত আবেগগুলি যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায় এই দাবিকে কেন্দ্র করে। কলকাতার ইস্ট-মোহন ডার্বি, এশিয়ান তথা বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডার্বি গুলোর মধ্যে একটি। এই বড় ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে। কিন্তু সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশ যদি ভবিষ্যতে আপনার কর্মক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে?

ঠিক এমন ঘটনাই ঘটছে ইস্টবেঙ্গলের নতুন মিডিয়া ম্যানেজার সপ্তক ঘোষের সাথে। তিনি নিজে ছোটবেলা থেকে কট্টর মোহনবাগান সমর্থক। কিন্তু এখন পেশার দায় ইস্টবেঙ্গলের মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে লাল-হলুদ ক্লাবে যুক্ত হয়েছেন। তিনি আগে সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার (PTI) সাথেও যুক্ত ছিলেন (এই তথ্যটি যাচাই করা হয়নি)।

অতীতে সবুজ মেরুন সমর্থক হওয়ার কারণে খুব স্বাভাবিকভাবেই ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে কিছু কথা লিখে তিনি পোস্ট করেছিলেন নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার সেই কথাগুলোই এখন বুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে।

লাল-হলুদ ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি। এমনকি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ‘জয় ইস্টবেঙ্গল’ লিখেও পোস্ট করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি এটাও পরিস্কার করে দিয়েছেন যে ব্যক্তিগত বিশ্বাস আর পেশাগত ক্ষেত্র তিনি এক করে ফেলবেন না, তাও তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বিনীতভাবে জানিয়েছেন যে তার স্বর্গত পিতাকে এবং তার অসুস্থ মা-কে কেন্দ্র করে যে আক্রমণগুলি করা হচ্ছে তা যেন বন্ধ করা হয়। এই ব্যাপারেও তার পাশে দাঁড়িয়েছে বিশাল সংখ্যক লাল-হলুদ সমর্থক। তারা বলেছেন পেশাগত কারণে ইস্টবেঙ্গলে এর আগে অনেক এমন ফুটবলার খেলে গিয়েছেন বা এখনও খেলছেন যারা মনে প্রাণে হয়তো সবুজ-মেরুণ সমর্থক। যদি তাদেরকে ইস্টবেঙ্গল ভক্তরা স্বাগত জানাতে পারে তাহলে সপ্তকের ক্ষেত্রে তার অন্যথা কেন হবে!

যদিও এক অংশের ইস্টবেঙ্গল সমর্থক ব্যাপারটিকে তাদের জয় বলে প্রচার করছেন। পেশার কারণেই হোক বা যে কোনও কারণেই হোক একজন অত্যন্ত মোহনবাগান সমর্থককে ‘জয় ইস্টবেঙ্গল’ বলতে হয়েছে এটাই সবচেয়ে বড় জয় লাল-হলুদ ক্লাবের কাছে বলে মনে করছেন সেই সমর্থকরা।

Related Articles