এবার ‘এক দেশ, এক নির্বাচন” লক্ষ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার! তুলকালাম সৃষ্টির আশঙ্কা

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ এক দেশ, এক নির্বাচনের লক্ষ্যে ভারত সরকার (Government Of India) প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, সরকার তার সম্ভাবনা বিবেচনা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে (Ram Nath Kovind)। শিগগিরই কমিটির সদস্যদের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। যদিও সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস প্রশ্ন করেছে যে, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্বের মতো সমস্যাগুলোর সমাধান না করে সরকার ‘এক দেশ, এক নির্বাচন” করার তোরজোড় শুরু করেছে।

   

সরকার কেন গোটা দেশে একসঙ্গে নির্বাচন করতে চায়?: বলে দিই যে, নির্বাচন পরিচালনার আর্থিক ব্যয়, ঘন ঘন প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন অসুবিধা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক ব্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এক দেশ, এক নির্বাচনের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এর আওতায় সব রাজ্যের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে করতে চায় সরকার।

বলে দিই, এর আগে ১৯৫১-৫২ সালে লোকসভা এবং সমস্ত রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পরে, ১৯৫৭, ১৯৬২ এবং ১৯৬৭ সালে লোকসভা এবং সমস্ত বিধানসভার নির্বাচন একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ১৯৬৮, ১৯৬৯ সালে কিছু বিধানসভা অকালে ভেঙে দেওয়া এবং ১৯৭০ সালে লোকসভার অকাল বিলুপ্তির কারণে এক দেশ এক নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। এই কারণেই এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে প্রতি বছরই কোথাও না কোথাও নির্বাচন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার আবারও লোকসভা এবং সমস্ত রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন একসঙ্গে করার সম্ভাবনার কথা ভাবছে। এখন কমিটি গঠন এ দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।

সরকারের পক্ষেও সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়ঃ এক দেশ, এক নির্বাচনের সম্ভাবনা বিবেচনায় সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। তবে সরকারের পক্ষেও এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে আইন আনা সহজ হবে না। আসলে একযোগে নির্বাচন করতে হলে অনেক বিধানসভারই মেয়াদ কমে যাবে। যার বিরোধিতা যে হবেই, সেটা বলাই বাহুল্য।

ক্ষতির মুখে পড়তে পারে আঞ্চলিক দলগুলোঃ ভারতে এক দেশ, এক নির্বাচন বাস্তবায়ন হলে আঞ্চলিক দলগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আসলে, লোকসভা নির্বাচনে ভোটাররা সাধারণত জাতীয় ইস্যুগুলির ভিত্তিতে এবং জাতীয় দলের পক্ষে ভোট দিতে পছন্দ করেন। এমন পরিস্থিতিতে লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচন হলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আঞ্চলিক দলগুলোকে।

সম্পর্কিত খবর