টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গ

চাকরি না পেয়ে ‘MA ইংলিশ চায়েওয়ালি”র নামে খুলেছিলেন দোকান, ভেঙে দিল রেল

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ চাকরি না পেয়ে হতাশায় ডুবে যাওয়ার বদলে নিজের রাস্তা বেছে নিয়েছিলেন হাওড়ার টুকটুকি দাস। চাকরি খোঁজা বাদ দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য একটি চায়ের দোকান খুলেছিলেন MA পাশ টুকটুকি। দোকানের নাম দিয়েছিলেন MA ইংলিশ চায়েওয়ালি। প্রথমে কিছুটা বাধা আসলেও, মন দিয়ে নিজের ব্যবসা করা শুরু করে দেন টুকটুকি। এরপর নেট দুনিয়ায় তিনি ভাইরালও হয়ে পড়েন।

নেটজগতে ভাইরাল হওয়ার পর তাঁর দোকানে চা খাওয়ার জন্য এবং তাঁকে সাহায্যের জন্য অনেকেই হাত বাড়িয়ে দেন। হাবরার স্টেশনে ছোট্ট চায়ের দোকান চালানো টুকটুকি হয়ত কোনোদিনও ভাবতে পারেন নি যে, তাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এতটাই হৈচৈ পড়ে যাবে। হাবরার শ্রীচৈতন্য কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক হওয়া টুকটুকি রবীন্দ্রভারতই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করে চাকরির জন্য অনেক চেষ্টাই করেছিলেন। কিন্তু সরকারি তো দূরের কথা, একটি বেসরকারি চাকরিও জোটেনি। এরপরই তিনি চায়ের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেন।

নেটদুনিয়া ভাইরাল হওয়ার পর হাবরারা বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওনার পাশে দাঁড়ান। তিনি টুকটুকিকে একটি চায়ের দোকান করে দেওয়ার পরামর্শও দেন। প্রতিশ্রুতি মতোই হাবরা স্টেশনের ২-৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সংযোগস্থলে টিনের চালা যুক্ত একটি অস্থায়ী দোকান করে দেয় হাবরা পুরসভা। যদিও, এখনও পর্যন্ত সেই দোকানটি টুকটুকির হাতে তুলে দেয়নি পুরসভা।

কিন্তু, টুকটুকি সেখানে জমিয়ে ব্যবসা শুরু করার আগেই RPF কর্মীরা এসে তুলকালাম কাণ্ড করে দেন। তাঁদের বিরুদ্ধে টুকটুকির নতুন দোকান ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। স্টেশনে আরও দোকান থাকতে টুকটুকির দোকানই কেন ভাঙা হল এই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও, এক আরপিএফ কর্মী জানিয়েছেন যে, স্টেশনে নতুন করে আর কোনও দোকান করতে দেওয়া হবে না। পুরনোগুলো আপাতত থাকবে। আর এই কারণেই নতুন দোকানটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়ে গিয়েছে। শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে হাবরা স্টেশন চত্বরে এই নিয়ে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি আরপিএফের অফিসের সামনেও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন হাবরা পুরসভার পুরপ্রশাসক নারায়ণ সাহা। তিনি বুধবার রাতে ভেঙে ফেলা সেই দোকানের পরিদর্শনেও যান।

Related Articles

Back to top button