বড় সফলতা, ২৬/১১ এর চক্রীকে ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছে আমেরিকার! মিলবে কড়া শাস্তি

বাংলা হান্ট ডেস্ক : কূটনৈতিক (Diplomacy) ক্ষেত্রে বড় সাফল্য ভারতের (India)। আদালতের নির্দেশ মেনে আমেরিকার (America) জেলে বন্দি ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত পাকিস্তানি (Pakistan) বংশোদ্ভূত কানাডার ব্যবসায়ী তাহাউর রানাকে (Tahawwur Hussain Rana) ভারতের হাতে তুলে দিতে চলেছে মার্কিন সরকার। মে মাসে ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালত রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রানার আবেদন এখন ওয়াশিংটনের নবম সার্কিট বেঞ্চে বিচারাধীন।

   

কিন্তু প্রত্যর্পণের রায়ে স্থগিতাদেশ চেয়ে রানার আবেদন চলতি সপ্তাহে খারিজ হয়ে গিয়েছে। ফলে চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আমেরিকার বিদেশ সচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন প্রত্যর্পণের নির্দেশনামায় সই করতে পারবেন। চলতি সপ্তাহে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এ খবর জানায়।

mumbai attack 2

মুম্বাই হামলায় জড়িত রানা : মুম্বই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত ডেভিড কোলম্যান হেডলির দীর্ঘ দিনের বন্ধু রানাকে পাওয়ার জন্য প্রায় বছর পনেরো আগে ওয়াশিংটনের কাছে আবেদন জানায় নয়াদিল্লি। কিন্তু সেই সময় তাতে সায় মেলেনি। বরং পরবর্তী কালে তিনি জামিনে মুক্তিও পেয়ে যান। যদিও ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর পাকিস্তান থেকে আগত ১০ লস্কর-ই-তইবা জঙ্গির মুম্বইয়ে হামলার পরিকল্পনায় রানা প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ছিল ভারতের।

১৯৯৭ সালের আমেরিকার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি সম্পন্ন হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী ভারত ফের আবেদন জানায়। এরপর ২০২০ সালের জুন মাসে মুম্বই নাশকতার ঘটনাতেই আবার রানাকে গ্রেফতার করে আমেরিকার পুলিস। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে রানা জামিনের আবেদন জানালও নো হলেও বছর দেড়েক আগে তা খারিজ হয়ে গিয়েছিল। ফলে তাঁর প্রত্যর্পণের পথ পরিষ্কার হয়।

আরও পড়ুন : এবার রাখিতেও লেখা ‘জয় বাংলা’! কালনার এই সংস্থা পেল ৭ লক্ষ রাখির বরাত, চমকে দেবে টাকার অংক

২৬/১১-র ভয়ংকর স্মৃতি : প্রসঙ্গত, প্রায় চারদিন ধরে স্তব্ধ করে রেখেছিল ২৬/১১-এর সেই ভয়াবহ জঙ্গি হামলা। ২৬ নভেম্বর শুরু হয়েছিল হামলা। ২৮ নভেম্বর সকালেই সন্ত্রাসের কবল থেকে মুম্বইকে মুক্ত ঘোষণা করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। শুধু তাজ হোটেলে তখনও নিধনযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছিল জঙ্গিরা। তাজ হোটেলকে জঙ্গিমুক্ত করতে ২৯ নভেম্বর ‘অপারেশন ব্ল্যাক টর্নেডো’ অভিযান চালান ভারতীয় এনএসজি কম্যান্ডোরা। মারা যায় বাকি জঙ্গিরা। শেষ হয় মুম্বই হামলা। তদন্তে জানা যায়, পাকিস্তান থেকে এই হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল জঙ্গি সংগঠনলস্কর-ই তইবা। বাকি জঙ্গিরা নিহত হলেও ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষীদের অসীম সাহসিকতায় ধরে ফেলা সম্ভব হয় আজমল কাসভকে। তার কাছ থেকেই জানা যায় হামলার খুঁটিনাটি।

সম্পর্কিত খবর