এবার ভাগ্য খুলতে চলেছে প্যারা টিচারদের? প্রমোশন নিয়ে বড় খবর এল প্রকাশ্যে

বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ঝামেলার শেষ নেই। কখনও সামনে আসে নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) তো কখনও দেখা যায় শিক্ষকদের হরতাল। কেউ বলছেন কাজ করেও তার যোগ্য মর্যাদা পাচ্ছেননা তো কেউ বলছেন, অযোগ্যরা টাকার জোরে বড় বড় পদে বসে আছেন। সাধারণ মানুষের কথায়, গোটা শিক্ষা ব্যাবস্থাই আজ নিছক প্রহসন। তবে তার মাঝেই একটু ক্ষীণ আশার আলো দেখতে পেলেন রাজ্যের প্যারা টিচাররা (Para Teacher)।

বিগত অনেকদিন ধরেই সহকারী শিক্ষকের মর্যাদা পাওয়ার জন্য লড়ে যাচ্ছেন রাজ্যের প্যারা টিচার অর্থাৎ পার্শ্ব শিক্ষকেরা। বহুদিন ধরেই চলছে আন্দোলন। তাদের দাবি, সহকারি শিক্ষকদের সমান কাজ করেও না পান তাদের সমান বেতন আর না পান পদমর্যাদা। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হয়েও বঞ্চিত হন তারা।

   

অবশেষে এইসব শিক্ষকদের নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। খুব শীঘ্রই তাদের নিয়ে একটি সার্ভে করা হতে পারে বলে খবর। জানা যাচ্ছে, রাজ্যে কতজন পার্শ্ব শিক্ষক কাজ করছেন, কার দায়িত্বে কত কাজ রয়েছে, এই সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখে তারপর তাদের পদোন্নতির কথা ভাবা হবে। সেখান থেকে তাদের সহকারী শিক্ষকের সমতুল্য পদে আনা যায় কি না সেটাও বিচার বিবেচনা করবে সরকার। সূত্রের খবর, রাজ্য মন্ত্রিসভায় এই বিষয়টি আলোচনা হওয়ার পরেই এখন শিক্ষকমহলে এ নিয়ে জোরচর্চা শুরু হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলছেন, “শুনতে বিষয়টা খুব ভাল। কিন্তু রাজ্য সরকার দায়িত্ব নিয়ে কতটা ট্রেনিং করাতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।” পাশাপাশি শিক্ষাবিদ দেবাশিস সরকার মন্তব্য করেছেন, “পার্শ্ব শিক্ষকদের উন্নতি হবে ভাল কথা। কিন্তু তাদের উন্নতি করার পাশাপাশি যেন স্থায়ী শিক্ষকদের শূন্যপদ অবলুপ্ত না করা হয়। কলেজের ক্ষেত্রে দেখেছি, SACT অধ্যাপকরা আসার পর স্থায়ী অধ্যাপকদের শূন্যপদ কমে গিয়েছে। তেমন হলে অসুবিধে।”

teacher 1

এদিকে আবার সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য চালু করা হচ্ছে নয়া নিয়ম। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে অ্যাকাডেমিক পারফরমেন্স ইনডেক্টর। যার মাধ্যমে সহকারী শিক্ষকদের বার্ষিক মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ এবার থেকে পড়ুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও একপ্রকার পরীক্ষা দেবেন। সহজভাবে দেখতে গেলে এখন থেকে শিক্ষকদের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য ‘অ্যাপ্রাইজাল’ পদ্ধতিতে হাঁটতে চলেছে রাজ্য। আর এইসব কিছু সরেজমিনে দেখে তারপরেই পদোন্নতির ভাবনাচিন্তা করবে রাজ্য।

Moumita Mondal
Moumita Mondal

মৌমিতা মণ্ডল, গ্র্যাজুয়েশনের পর শুরু নিয়মিত লেখালেখি। বিগত ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে লেখালেখির সাথে যুক্ত। প্রায় ২ বছর ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর