বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা এবং অনুচ্ছেদ ৩৫এ বাতিল করা হয়েছিল ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট। তারপর থেকে প্রায় দু বছর বাদে এই প্রথমবার ১৪ জন কাশ্মীরি নেতার সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী(Narendra Modi)। তাই এই বৈঠক যে রাজনৈতিকভাবে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা বলাই বাহুল্য। শুধু দেশ নয় গোটা বিশ্ব কার্যত তাকিয়ে ছিল এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ(Omar Abdullah) থেকে শুরু করে মেহেবুবা মুফতি(Mehbooba Mufti) একাধিক বিশিষ্ট নেতানেত্রী।
কিন্তু এই বৈঠকের ফল যে অন্তত কাশ্মীরি নেতাদের জন্য খুব আশাবাদী হলো না, তা বলাই বাহুল্য। বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন একাধিক নেতা। কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেন, “৩৭০ ধারার ইস্যুটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সঙ্ঘ পরিবার বলে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের জন্য তাঁরা ৭০ বছর লড়াই করেছেন। আমরাও এটা ফিরিয়ে আনার জন্য ৭০ বছর ধরে সংগ্রাম চালাতে পারি।”
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বৈঠকের বিষয় ৩৭০ ধারা হলেও সে সম্পর্কে তেমন কোনো আলোচনাই হয়নি। ওমর পরিষ্কার জানান, শুধুমাত্র বৈঠকের মাধ্যমে ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে নেওয়া যাবে এই আশা আমরা করিনা। কাশ্মীরের মানুষকে তারা জানিয়েছেন, এটি সংগ্রামের শুধু সূত্রপাত মাত্র। অন্যদিকে একই বার্তা দিয়েছেন কাশ্মীরি নেত্রী মেহেবুবাও। তিনি পরিষ্কার জানান, ‘‘একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিতে চাই। আমি দিল্লিতে নির্বাচনের দাবি জানাতে আসিনি। বরং জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সেখানকার জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করে তোলার জন্য কেন্দ্রকে আর্জি জানাতে।’’
কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া না হলে তিনি যে মুখ্যমন্ত্রী হবেন না একথা ঐদিন স্পষ্ট করে দেন মেহেবুবা মুফতি। তার পরিষ্কার বার্তা, “রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আমি মুখ্য মন্ত্রী হবো না। কারণ মানুষকে এটাই জানাতে চাই যে এটা কেবলমাত্র স্লোগান নয়।”
সবমিলিয়ে কথা মনে করা যেতেই পারে যে এদিনের বৈঠকের পর উত্তেজনা আরও কিছুটা বাড়লো বৈ কমলো না। কারণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর এও জানিয়েছেন, এখনই রাজ্যে ৩৭০ ধারা ফেরানোর আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।