বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সমগ্র বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় জনবহুল দেশ হল আমাদের ভারতবর্ষ (India)। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ১৩০ কোটি মানুষ বসবাস করে চলেছে আমাদের দেশে। আগামী কয়েক বছরে এই সংখ্যা ১৫০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আবার দেশের মধ্যে বৃহৎ জনবহুল রাজ্য হল উত্তরপ্রদেশ (Uttarpradesh)। ২৪ কোটি জনসংখ্যা বিশিষ্ট এই রাজ্যে বর্তমানে জনবিস্ফোরণ রোধ করতে তৎপর হয়ে উঠেছে যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) সরকার। বর্তমানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি আয়োজন করে চলেছে তারা আর এবার এই প্রসঙ্গে মত প্রকাশ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
গতকাল বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে বক্তব্য রাখেন যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট শ্রেণীর জনঘনত্ব কখনোই নির্বিচারে বৃদ্ধি পাওয়া ঠিক নয়। এক্ষেত্রে যদি এই ঘটনা ক্রমশ ঘটতে থাকে, তবে আমাদের এর বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা উচিত। ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে মতভেদ আছে, দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে সক্ষম এগুলি। তবে এক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রেখে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া জনসংখ্যায় রাশ টানতেই হবে, নাহলে পরবর্তীতে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।”
উল্লেখ্য, খুব দ্রুত রাজ্যের জনসংখ্যা ২৫ কোটি ছাড়াবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এই প্রসঙ্গে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যথেষ্ট মুশকিলের কাজ। তবে আমাদের এর বিরুদ্ধে কর্মসূচি চালাতে হবে। উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, উপ মুখ্যমন্ত্রী সহ আরো বহু মানুষের সমাগম ঘটে লখনউতে। সেখানে অনুষ্ঠান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “জাতি-ধর্ম-বর্ণ সবকিছুর ঊর্ধ্বে যেতে হবে আমাদেরকে। সকল সমতা বজায় রাখা আমাদের কর্তব্য এবং এর সঙ্গে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জন্য প্রচার চালাতে হবে।”
এছাড়াও এদিন তিনি সমাজের প্রতিটি শ্রেণীর মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সফলভাবে করা প্রয়োজন। ভারসাম্য বজায় রেখে এর হার আমাদের একটা সীমা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।” যোগী আদিত্যনাথের মতে, “রাজ্যের আশা কর্মী, শিক্ষক থেকে শুরু করে গ্রাম প্রধান এবং অন্যান্য ব্যক্তিরা যদি এই কাজে নিজেদের হাত লাগান, তবে উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্য সফল হবে।”