হিন্দিতে লিখলেন ওষুধ ও রোগ! এবার মুসলিম ডাক্তারের ‘শ্রী হরি” লেখা প্রেসক্রিপশন ভাইরাল

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) সাগর জেলার এক মুসলিম ডাক্তারের লেখা প্রেসক্রিপশনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) তুমুলভাবে ভাইরাল হতে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, ডেন্টাল সার্জেন ডাঃ আওসাফ আলি হিন্দিতে রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রেসক্রিপশনের একদম প্রথমে তিনি “শ্রী হরি”-ও লিখে দেন। তারপর একে একে রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লেখেন ওই চিকিৎসক।

মূলত, সাগরের রাহাতগড় বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত সানা ডেন্টাল ক্লিনিকের কর্ণধার ডাঃ আওসাফ আলি এখন হিন্দিতে রোগীদের উদ্দেশ্যে প্রেসক্রিপশন লিখছেন। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, তিনি একজন ডেন্টাল সার্জন এবং ব্যক্তিগতভাবে প্র্যাকটিস করেন। মূলত, মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের আবেদন এবং হিন্দির প্রতি তাঁর আসক্তির কারণে আওসাফ হিন্দিতেই প্রেসক্রিপশন লেখা শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও, “শ্রী হরি”-ও লেখা রয়েছে সেখানে।

এই প্রসঙ্গে ডাঃ আওসাফ আলি বলেন, “প্রেসক্রিপশন লেখা ও রোগ নিরাময় করা আমাদের চিকিৎসকদের কাজ। কিন্তু বলা হয় রোগীর জন্য ওষুধের পাশাপাশি শুভকামনাও দরকার। তাই এমনও হতে পারে যে শ্রী হরি রোগীদের দেবতা। তাঁকে ডেকেই রোগীরা শীঘ্রই স্বস্তি পান। এদিকে, হিন্দি হল খুব সহজ ভাষা। প্রায় সবাই এটা বোঝে। তাই, আমি হিন্দিতে প্রেসক্রিপশন লিখছি।”

তিনটি বই হিন্দিতে অনুবাদ করা হয়েছে: এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, মধ্যপ্রদেশেই সর্বপ্রথম হিন্দিতে মেডিক্যালের পড়াশোনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ হিন্দিতে অনুবাদ করা তিনটি বইও চালু করেছেন। এদিকে, এর আগে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান চিকিৎসকদের ওষুধের প্রেসক্রিপশনে Rx-এর পরিবর্তে “শ্রী হরি” লেখার অনুরোধও জানিয়েছিলেন। এদিকে, এই বক্তব্যের পর চিকিৎসকদের বিভিন্ন মতামত সামনে আসে।

এই প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন জাতীয় সভাপতি ডাঃ অরবিন্দ জৈন বলেন, “ওষুধের প্রেসক্রিপশনে Rx লেখার পরিবর্তে শ্রী হরি লেখার কথা বলা হয়েছে। এই ধারণা একেবারেই ভুল। Rx মানে হল নিম্নলিখিত ওষুধগুলি সেবন করুন। কিন্তু শ্রী হরি লেখার কোনো মানে হয় না।” তিনি বলেন, “চিকিৎসা ক্ষেত্রে সব বর্ণ, ধর্মের মানুষ পড়াশোনা করে। শ্রী হরি লিখতে অন্য ধর্মের মানুষের আপত্তি থাকতে পারে। আমাদের সবার উচিত জাতীয় মেডিক্যাল কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা, যাতে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।”

Sayak Panda

সায়ক পন্ডা, মেদিনীপুর কলেজ (অটোনমাস) থেকে মাস কমিউনিকেশন এবং সাংবাদিকতার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স করার পর শুরু নিয়মিত লেখালেখি। ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর

X