প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই ফের উত্তেজনা ছড়াল ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তে, তৎক্ষণাৎ অ্যাকশনে ভারতীয় সেনা (Indian Army)। রবিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক জেলায় সন্দেহজনক ড্রোনের উপস্থিতি নজরে আসতেই সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেনা সূত্রের দাবি, পাকিস্তান থেকে পাঠানো ড্রোনই ভারতের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সঙ্গে সঙ্গে গুলি চালায় ভারতীয় সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী। অন্তত পাঁচটি ড্রোন ভারতের আকাশে প্রবেশ করেছিল বলে জানা গিয়েছে।
ভারতের আকাশে পাক ড্রোন দেখতেই অ্যাকশনে ভারতীয় সেনা (Indian Army):
সেনা সূত্রে খবর, জম্মু-কাশ্মীরের সাম্বা, রাজৌরি ও পুঞ্চ জেলায় একাধিক সন্দেহজনক উড়ন্ত বস্তু দেখতে পান নিরাপত্তারক্ষীরা। ড্রোন নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই গোটা এলাকায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, অস্ত্র অথবা মাদক পাচারের উদ্দেশ্যেই এই ড্রোনগুলি পাঠানো হয়েছিল।
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট নাগাদ সীমান্তের ওপার থেকে ভারতের আকাশসীমায় ঢোকে ওই উড়ন্ত বস্তুগুলি। বেশ কিছুক্ষণ ধরে তারা গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলির উপর দিয়ে চক্কর কাটে। সেনার নজরে পড়তেই নিকটবর্তী পোস্টগুলিকে সতর্ক করা হয় এবং ড্রোন লক্ষ্য করে মিডিয়াম ও লাইট মেশিন গান থেকে গুলি চালানো হয়। একই সময়ে সাম্বা জেলার খাব্বার গ্রাম সংলগ্ন এলাকাতেও লাল আলো জ্বলতে-নিভতে থাকা একটি উড়ন্ত বস্তু দেখা যায়, যা পরে ভারাখের দিকে সরে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ সাম্বা জেলার চাক বাবরাল গ্রামের উপরেও কয়েক মিনিট ধরে ড্রোনের মতো বস্তু উড়তে দেখা যায়। পুঞ্চ জেলার নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন এলাকাতেও একই ধরনের সন্দেহজনক উড়ন্ত বস্তুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা হয়েছে। এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়ালেও নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে দাবি প্রশাসনের।

আরও পড়ুন:উচ্চ মাধ্যমিকের মার্কশিটে ইউভি থ্রেড, জাল ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ শিক্ষা সংসদের
ড্রোনগুলি ঠিক কী উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্ত্র ও মাদক পাচার নাকি সীমান্তে নাশকতার পরিকল্পনা—সব দিকই তদন্তের আওতায় রয়েছে। মধ্যরাত পর্যন্ত একাধিক এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলে। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে এই ধরনের ঘটনার ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সোমবার ভারতের তরফে কোনও বড় কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপ করা হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর ওয়াকিবহাল মহলের।












