নিঃসঙ্গ মালগাড়িতে লেখা শুরু, আজ দেশের মঞ্চে সম্মান, পদ্মশ্রী পাচ্ছেন অশোককুমার হালদার

Published on:

Published on:

From Railway Guard to Padma Shri 2026 Ashok Kumar Haldar Literary Journey
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রেলের চাকরির একাকিত্বে শুরু হয়েছিল লেখালিখি। দীর্ঘ ৩০ বছরের সাধনার ফল মিলল অবশেষে। মালদহের ইংরেজবাজারের বাসিন্দা প্রাক্তন রেল গার্ড অশোককুমার হালদার পাচ্ছেন পদ্মশ্রী সম্মান। শিক্ষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের পদ্মসম্মানের (Padma Shri 2026) তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এই খবরে খুশির হাওয়া গোটা পরিবারে।

রেলের চাকরি থেকে সাহিত্যজগতে

৬৬ বছর বয়সি অশোককুমার হালদার কর্মজীবনে রেলের গার্ড পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১৯ সালে চাকরি জীবন থেকে অবসর নেন তিনি। বর্তমানে তাঁর বাড়ি মালদহের ইংরেজবাজার শহরের বিধানপল্লি এলাকায়। শিক্ষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে ২০২৬ সালের পদ্মশ্রী (Padma Shri 2026)সম্মানে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

একাকিত্ব থেকেই লেখালিখির শুরু

রেলে কর্মজীবনের শুরুটা হয়েছিল নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে। পরে পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশনে রেল গার্ড পদে নিযুক্ত হন অশোক। চাকরির প্রথম দিকে মালগাড়ির গার্ড হিসেবে কাজ করতেন তিনি। বাংলা, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তে মালগাড়ি নিয়ে যাতায়াতের সময় পাহাড়, জঙ্গল আর প্রকৃতির মধ্যেই কেটেছে দিনের পর দিন। সেই একাকিত্ব কাটাতেই কাজের ফাঁকে লেখালিখি শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নিয়মিত লেখালিখির মাধ্যমে ধীরে ধীরে দলিত সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন অশোক। ত্রিপুরার বিভিন্ন পত্রিকায় আড়াই হাজারের বেশি লেখা প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। ইংরেজি ও বাংলা, দুই ভাষাতেই লেখালিখি করেছেন তিনি। মোট ১৩টি বই প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে ইংরেজিতে আটটি এবং বাংলায় পাঁচটি বই রয়েছে।

শিক্ষা জীবন ও পারিবারিক পরিচয়

অশোকের জন্ম মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলাতে। তাঁর বাবাও রেলের কর্মী ছিলেন। স্কুলজীবন শুরু লালগোলা এমএন অ্যাকাডেমিতে। ১৯৮৫ সালে বহরমপুরের কেএন কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন তিনি। পরের বছরই রেলের চাকরিতে যোগ দেন। পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী ইলা হালদার, বড় ছেলে অমিত এবং ছোট ছেলে কিঙ্কর। স্ত্রী গৃহবধূ। বড় ছেলে গাজল ব্লকে অস্থায়ী কর্মী পদে কর্মরত। ছোট ছেলে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির চেষ্টা করছেন।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

অশোক নিজেই জানান, ‘৩০ বছর ধরে আমি লেখালিখি করছি। অবসর সময়ে লিখতাম। রেলের সহকর্মীরাও আমাকে সহযোগিতা করেছেন। লেখালিখির জন্য রেল ও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পুরস্কারও পেয়েছি।’ এর আগে তিনি নিজের লেখা বই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে পাঠিয়েছিলেন। সেই বই পড়ে তাঁকে রাষ্ট্রপতি ভবনে ডেকে পাঠান প্রণব মুখোপাধ্যায়। এরপর আরও উৎসাহ নিয়ে লেখালিখি চালিয়ে যান অশোক।

পদ্মশ্রীর পথে

২০১৭ সালে প্রকাশিত তাঁর বই ‘The Radical Change of Human Society and Its Scientific Observation’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই বই প্রকাশের ক্ষেত্রে স্ত্রী ও দুই পুত্র তাঁকে সবরকমভাবে সাহায্য করেন। গত বছরের ২৭ জুলাই স্ত্রী ইলা হালদার এই বইটি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অশোকের নামে পদ্মশ্রীর (Padma Shri 2026) জন্য আবেদন করেন। এর আগেও ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে নিজের বই নিয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন অশোক।

From Railway Guard to Padma Shri 2026 Ashok Kumar Haldar Literary Journey

আরও পড়ুনঃ ‘সব জায়গায় CCTV লাগাও’, হিংসা-তপ্ত নন্দীগ্রামে কড়া বার্তা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর

অবশেষে ২০২৬ সালের পদ্মসম্মানের (Padma Shri 2026) তালিকায় অশোককুমার হালদারের নাম উঠে আসায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি গোটা পরিবার। রেলের গার্ড থেকে স্বীকৃত সাহিত্যিক অশোকের এই দীর্ঘ যাত্রাপথ এখন সম্মানের শিখরে পৌঁছেছে।