বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনিক ও নীতিগত স্তরে একাধিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এবার সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া পৌঁছল পশ্চিমবঙ্গ দিবস (West Bengal Day) উদযাপনের ক্ষেত্রেও। দীর্ঘদিন ধরে যে তারিখ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল, নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে তারই অবসান ঘটল। নবান্ন থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে ২০ জুনই পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে সরকারি মর্যাদা পাবে।
পশ্চিমবঙ্গ দিবস (West Bengal Day) নিয়ে ঘোষণা সরকারের
বুধবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁর কথায়, এখন থেকে প্রতি বছর ২০ জুনই রাজ্যজুড়ে এই বিশেষ দিনটি উদযাপিত হবে। শুধু তাই নয়, কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, কারণ গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময়ে বাংলা নববর্ষের সূচনাদিন, অর্থাৎ ১৪ এপ্রিলকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে সরকারি স্তরে ওই দিন নানা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি বরাবরই দাবি করে এসেছে যে ২০ জুনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের গঠন-ইতিহাসের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণে তারা পৃথকভাবে ওই তারিখেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করে এসেছে। শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের এই ভিন্ন অবস্থান বহুবার রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা ছিল যে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের সরকারি তারিখ পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনাই বাস্তবে পরিণত হল। সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীর দিন মূর্তি নির্মাণের কাজ শুরুর লক্ষ্যে ভূমিপুজোর আয়োজন করা হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : ১৮০ দিনের মধ্যে সারতে হবে এই কাজ! বিদেশিদের জন্য ভারতের ইমিগ্রেশন নিয়মে বড় পরিবর্তন
রাজ্যের নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ দিবসের সরকারি তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বদল নয়, বরং রাজ্যের ইতিহাস ও পরিচয়কে ঘিরে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতপার্থক্যেরও নতুন দিশা তুলে ধরল।














